রাকসুর অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রতিবেদন: সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি আম্মারের

সালাহউদ্দিন আম্মার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) অর্থ ব্যয়ের হিসাব ও বিল-ভাউচার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ‘প্রটেকশন’ নিয়ে কটূক্তি করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
আজ বৃহস্পতিবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাকসুর ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয়ের বিপরীতে কোনো বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বিভিন্ন খাতে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে তিন ধাপে উত্তোলন করা ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের হিসাব বা বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন আম্মার। তিনি দাবি করেন, '১৮ লাখ টাকার ১৭ লাখ টাকা দিয়ে বিয়ে করছি, আর ১ লাখ টাকা দিয়ে শুধু উন্নতমানের প্রটেকশন কিনছি। যাতে, এমন কোনো সাংবাদিক আমার ঘরে পয়দা না হয়!'
পরে আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, রাকসুর তহবিল থেকে ভিপি, জিএস, এজিএস ও সম্পাদকরা অর্থ নিয়েছেন এবং মেয়াদ শেষে সবার হিসাব প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বললেন ‘রাকসুর জিএসের পারিবারিক শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে। তার নৈতিক মূল্যবোধের পাঠ অধ্যয়ন করা উচিত। তাকে শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে তার পরিবারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বললেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করার এখতিয়ার কারও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরাও শিক্ষার্থী। তাদের উদ্দেশ্যে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’







