ডা. জুবাইদা রহমান
শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে করতে হবে আনন্দময়

সংগৃহীত ছবি
শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষার সুযোগ অনগ্রসর এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারলে উন্মোচিত হবে প্রতিভা অনুসন্ধান ও সুপ্ত মেধার বিকাশের নতুন পথ।
শনিবার (১৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে উপস্থাপন করতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের পরিকল্পনায় থাকা আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগে উদ্ভাবনী ও মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুশিক্ষায় অবদান রাখা মেধাবী শিক্ষক খুঁজে বের করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘শিক্ষাগত উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচি’ (আগের নাম পারফরম্যান্সভিত্তিক অনুদান কর্মসূচি) দেশব্যাপী ‘উদ্যোক্তা উদ্যোগ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ আয়োজন করছে। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
এই আয়োজনে উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে অংশ নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত দলগুলো। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন ধাপে। উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ১২ জুন, জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ১৪ জুন এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা ১০টি দলকে দেওয়া হবে পুরস্কার।
জানা গেছে, জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজের মিলনায়তন শাহীন হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ক্ষুদে উদ্ভাবকদের উৎসাহ দিতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান।
আয়োজকদের ভাষ্য, উপজেলা ও শিক্ষা থানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলা ও মহানগরীর ১৬টি শিক্ষা থানার সম্ভাব্য ৩৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮১৬টি দল। সেখান থেকে নির্বাচিত ৩৭টি দল জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাঁচটি উপজেলা থেকে একটি করে মোট পাঁচটি দল এবং ১৬টি শিক্ষা থানা থেকে দুটি করে মোট ৩২টি দল নির্বাচিত হয়।
জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী ৩৭টি দলের মধ্য থেকে সেরা তিনটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি ১৭টি দলকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০টি দল পুরস্কৃত হবে।
প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষকসহ রয়েছে মোট পাঁচজন সদস্য। সে হিসাবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৮৫ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৫০০ জন অংশ নেন অনুষ্ঠানে।
তরুণ শিক্ষার্থীদের একই ছাদের নিচে উদ্যোক্তা-ভিত্তিক ব্যবসায়িক ধারণা, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রদর্শনের এই আয়োজন ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


