মুখস্ত বিদ্যার বদলে ‘আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতা

প্রতীকী ছবি
স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) প্রকল্পের আওতায় এই মেগা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার ছিল তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস স্কিম’(পিবিজিএসআই) এর অধীনে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ‘স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ শীর্ষক এই প্রোগাম আয়োজন করা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কার তুলে দেবেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইডিয়া শোকেসিং বা উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী হলো শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার একটি অনন্য মঞ্চ। যাতে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা হবে। প্রথমটি স্টার্টআপ যা মূলত নতুন কোনো ব্যবসা বা সেবামূলক উদ্যোগের সৃজনশীল ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা। দ্বিতীয়টি বিজ্ঞান প্রজেক্ট যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারিক মডেল বা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প তৈরি করা হয় এবং তৃতীয়টি উদ্ভাবনী ধারণা যার লক্ষ্য পরিবেশ, জলবায়ু, শিক্ষা বা দৈনন্দিন জীবনের নানা জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন, কার্যকরী ও ডিজিটাল সলিউশন খুঁজে বের করা।
আগামী ১১ জুন দেশব্যাপী সব উপজেলা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরীর আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় উপজেলা পর্যায়ে এই শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত দল এতে অংশ নিতে পারবে। উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা দলগুলোকে নিয়ে আগামী ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দল ও শিক্ষকদের তালিকা জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরসহ স্ক্যান করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে নির্ধারিত স্কিম ই-মেইলে পাঠাতে হবে।
দেশ জুড়ে যাচাই-বাছাই শেষে ৬৪টি জেলা এবং ৪টি মহানগরী থেকে নির্বাচিত মোট ৭৫টি দল ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। ঢাকার বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপিত প্রজেক্টগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করা হবে, যারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবে। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা এবং শিক্ষকদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কারসহ সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতার যাবতীয় ব্যয় পিবিজিএসআই স্কিম থেকে সরাসরি জেলা শিক্ষা অফিসারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।






