আগামীর সময়

শিক্ষামন্ত্রীকে ৯‌০ দিনের রোডম্যাপ

চক-ডাস্টার পাল্টে শিক্ষায় এআই চালুর প্রস্তাব

চক-ডাস্টার পাল্টে শিক্ষায় এআই চালুর প্রস্তাব

ফাইল ছবি

ধুলোমাখা পাঠ্যবইয়ের মলাট থেকে ডিজিটাল স্ক্রিন, ব্ল্যাকবোর্ডের ধূসর স্মৃতি মুছে জায়গা নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিক্ষকের হাতে শোভা পাবে আধুনিক ট্যাব, আর শ্রেণিকক্ষে প্রতিধ্বনিত হবে নিজস্ব শিক্ষা চ্যানেলের সুর। বদলি বা পদোন্নতির পুরনো জটিলতা কাটিয়ে প্রশাসন হবে ডিজিটাল। শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য আর নৈতিক মূল্যবোধকে দেওয়া হবে স্বীকৃতি। মানবিকতা, প্রযুক্তি আর আধুনিকতার এক অনন্য মিশেলে সেজে উঠবে শিক্ষা ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার নয়া শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) গেলে আগামী ৯০ দিনের উচ্চাভিলাষী স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার তুলে ধরেন কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার মতো ৫০টি চমকপ্রদ উদ্যোগ স্থান পেয়েছে। এছাড়াও মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী আরও পরিকল্পনা কথা জানিয়েছেন মন্ত্রীকে। সেগুলো ধীরে ধীরে তুলে ধরবে প্রশাসন।

রোডম্যাপের আকর্ষণীয় দিক-শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে একটি জাতীয় শিক্ষা টিভি চালু এবং প্রশাসনে গতি বাড়াতে এআই-চালিত ভার্চুয়াল সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তি নির্ভর পাঠদান করাতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ।এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ই-হেলথ কার্ড ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে ৯০ দিনের পরিকল্পনার অংশে। বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সর্বজনীন বদলি’ প্রক্রিয়া চালু, সরকারি স্কুলে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতি করা হবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ে বিশেষ সেল গঠন, জিপিএ নির্ভর পড়াশোনা পরিবর্তে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ৬৯৮টি কলেজে আইসিটি ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ শেষ করার পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের জন্য ঢাকার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সাঁতার শেখানো এবং ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে চক-ডাস্টারের চেনা গণ্ডির পরিবর্তে এআই সংমিশ্রণে শিক্ষা দিতে পারলে শিক্ষায় নতুন ডানা মেলবে বলে জানিয়েছেন মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আবদুল হান্নান।

তিনি বলেছেন, নতুন মন্ত্রীকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী এই তিন ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। এরমধ্যে আজ ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি যেখানে প্রশাসনিক কাজে সহজীকরণে প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্লাসরুমে এআই-এর ব্যবহার, প্রত্যেক শিক্ষকের হাতে একটি ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের জন্য একটি র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী তিনদিনের মধ্যে এসব পরিকল্পনার ফলাফল কী সেটা জানতে চেয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেছেন, কী কী মডেলে এই কাজটি হচ্ছে তা আপনারা আমাকে জানাবেন।

এছাড়া প্রশাসনিক ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে ‘ইউনিফাইড রিয়েল-টাইম এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদন সাপেক্ষে এই পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে মাউশি সূত্রে জানা গেছে।

    শেয়ার করুন: