শিক্ষামন্ত্রীর সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ

ফাইল ছবি
দেশে পাসের হার ও জিপিএ–৫ বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার মান উল্টো দিকেই হাঁটছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও শেখা বিষয় বাস্তবে প্রয়োগের সক্ষমতায় বড় ঘাটতি স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের ডিগ্রির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্বব্যাংকের গত বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি শিশু ১৮ বছর বয়সে সাধারণত ১১ বছর মেয়াদি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করে, অর্থাৎ প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা শেখার মান বিবেচনায় বাস্তবে অর্জন করছে মাত্র ৬ দশমিক ৫ বছরের সমতুল্য শিক্ষা। অর্থাৎ গড়ে অন্তত সাড়ে চার বছর পিছিয়ে আছে। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মান সপ্তম শ্রেণির সমপর্যায়ে নেমে আসা শিক্ষার গুণগত দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ববি হাজ্জাজ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মাহদী আমিন। ফলে শিক্ষা খাতের দায়িত্বে থাকা এই তিনজনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী তিনটি অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পরিবেশ তৈরি, জাতীয় কারিকুলাম পর্যালোচনা ও পরিমার্জন, এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন। পাশাপাশি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি। ১৮০ দিনের রোডম্যাপের মাধ্যমে কোন পর্যায়ে কীভাবে কাজ এগোবে, সেটিও শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাসের হার বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষার মানোন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ ছিল না। ফলে দুর্বল ভিত্তি নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তী স্তরে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে রুটিন কাজ আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলন সামাল দিতেই সময় কেটেছে। মানোন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে আগের মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে নকল প্রতিরোধে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছিলেন এহছানুল হক মিলন। এবার তাঁর সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবায়নই আসল বিষয়। খণ্ডিত লক্ষ্য নয়, প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শক কমিটির সুপারিশও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের কার্যকর কৌশল জরুরি। শিক্ষার উন্নয়নে একটি শক্তিশালী পরামর্শক কমিটিও গঠন করা যেতে পারে।

