আগামীর সময়

জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে যেভাবে ডাকসু নির্বাচন, বললেন ঢাবি অধ্যাপক

জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে যেভাবে ডাকসু নির্বাচন, বললেন ঢাবি অধ্যাপক

সংগৃহীত ছবি

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা সময়েই বিতর্ক ছিল। নীলক্ষেত থেকে ব্যালট উদ্ধারসহ নানা ঘটনা ডাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এবার এই নির্বাচন কিভাবে করা হয়েছে, একইসঙ্গে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো কিভাবে হয়েছে সে বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।

জামায়াত জাতীয় নির্বাচনী হাইপ তৈরি করার জন্যই সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়েছিল, যেন তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরকে বিজয়ী করে। ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতের ভিসি নিয়োগ দিয়ে ডাকসুসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদগুলোতে বিজয়ী করে জামায়াতের পক্ষে একটা হাইপ তৈরির চেষ্টা দেখেছি। তার ফলে মনে শংকা তৈরি হয়েছিল জামায়াতকে পুশ করছে কিনা।

দেশ মব সংস্কৃতিতে ঢুকে যাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। ড. মামুন বলেন, প্রশাসনের উচ্চ পদে জামায়াতের আমলাদের অবসরে যাওয়াদের থেকে ডেকে নিয়োগ দিয়ে একটা হাইপ তৈরির চেষ্টা দেখেছি। তার ফলে মনে শংকা তৈরি হয়েছিল জামায়াতকে পুশ করছে কিনা। মনে হচ্ছিল দেশ আফগানিস্তানের পথে চলে যাবে। মনে হচ্ছিল দেশ মব সংস্কৃতিতে ঢুকে যাবে।

বট বাহিনীকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশে শিল্প সংস্কৃতির উপর মারাত্মক আঘাত আসবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আঘাত আসবে। নারীদের চলাফেরা এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও নারীদের চলাফেরা ও পোশাক পরিচ্ছেদে একধরণের invisible চাপ চলছিল। মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বট বাহিনীর অত্যাচার ছিল। এই বট বাহিনী বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তৈরি করেছে একটি রাজনৈতিক দল। এই সব কিছু থেকে দেশ আপাত রক্ষা পেয়েছে। দেশের জনগণকে এইজন্য ধন্যবাদ।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের একটা প্রাপ্তি হলো এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঝুঁকে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ধারণ করা। এর জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান অব্যশই ধন্যবাদ প্রাপ্য। দেশে ফিরে আসার পর থেকে নির্বাচন ক্যাম্পেইন চলা ও মনোয়ন দেওয়ার কালে এই বিষয়টা মনে রেখেছেন। নানারকম ট্রলিং ও সমালোচনা সত্বেও বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের উপর আস্থা রেখে তাকে মনোনয়ন দেওয়া।

দেশ এক বিশাল ক্রান্তিকাল থেকে রক্ষা পেয়েছে জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বললেন, ওই সময় সামান্য ভুল করলেই বর্তমান প্রাপ্তি থেকে অনেক দূরে চলে যেতে পারতো। যাহোক দেশ এক বিশাল ক্রান্তিকাল থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভূমিধস বিজয় এইবারই প্রথম না। এইরকম জয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগেরও আগে এসেছে এবং তারপর কি হয়েছে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। আকাশে না উঠে দেশকে মাথায় রাখলে শরীর দেশের মাটিতে থাকবে তাহালেই দেশেরও মঙ্গল হবে একই সাথে দলেরও মঙ্গল হবে।

    শেয়ার করুন: