সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ : ডাকসু

ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।
আজ বুধবার ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের ‘স্বাধীনতা’ নিশ্চিতে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছিল অন্তবর্তীকালীন সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল’ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে। সর্বশেষ, সচিবালয় বিলুপ্ত করে সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা বিচার বিভাগের ‘স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন’ নিয়ে নতুন ‘উদ্বেগ’ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেছে ডাকসু।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জুলাই বিপ্লবপরবর্তী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনআকাঙ্ক্ষা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলির ভয় এবং পদোন্নতির প্রলোভনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন করেছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।’
এতে বলা হয়, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি। রাষ্ট্রক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ ধরনের ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীন কার্যক্রমকে পুনরায় নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।’
এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায় ডাকসু।




