বিদায়ী বক্তব্যে নিয়াজ আহমেদ
আমার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই

সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।
অধ্যাপক এ বি এম উবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরদিন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ।
নিজের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট নেই দাবি করে নিয়াজ আহমেদ খান জানালেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো সময়ে আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে আমাকে জানান।’
দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দেননি বলেও দাবি করলেন সাবেক এই উপাচার্য। ‘আমি কোনো ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা দিইনি, অসুবিধাও করিনি। অসত্য বয়ানকারী ও চরিত্রহননকারীদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই।’
তবে, বরাবরই তার বিরুদ্ধে ডাকসু নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে ছাত্রশিবিরকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।
‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।’ ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে বলছিলেন তিনি।
নিয়াজ আহমেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব ছেড়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে নিজের দায়িত্বকালে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের কথা উল্লেখ করেন নিয়াজ আহমেদ খান। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তিনি প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর কথা তুলে ধরেন। এ প্রকল্পের আওতায় একাধিক একাডেমিক ভবন, ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসন, প্রশাসনিক ভবন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা কাজ বাস্তবায়নাধীন।
র্যাঙ্কিং ও গবেষণায় অগ্রগতির দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি জানান, টাইমস হায়ার এডুকেশন ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪তম স্থান অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়েও একাধিক বিভাগ প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

