‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

ফাইল ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করতে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতার বিষয়টি সামনে আসায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হুঁশিয়ারির কথা জানানো হয়।
ঢাবি প্রশাসন বলছে, বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ঢাবি প্রশাসন জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষকদের এ ধরনের সম্পৃক্ততা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, অপসারণ বা বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। টেলিগ্রামে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে একটি গোপন গ্রুপ খোলা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওই গ্রুপের সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রুপটির অ্যাডমিন হিসেবে অধ্যাপক মাহবুবরই মূল বার্তা আদান-প্রদান সমন্বয় করতেন— এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। গোপনীয় এই গ্রুপের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনাসহ আওয়ামী লীগকে আরও সক্রিয় করার নানান কার্যক্রম উঠে আসে।







