এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল
মানসিক চাপ জিতে রিয়ানার জিপিএ ৫

রিয়ানা জুলিয়েট গনসালবেছ ও তার মা মেরিলিন কোড়াইয়া। ছবি: আগামীর সময়
দুবার শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নানা ধরনের বিড়ম্বনা ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। নতুন কারিকুলামে পড়াশোনা শুরু করার পর আবার পুরনো কারিকুলামে ফিরে আসায় অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে নতুন করে। এর সঙ্গে দশম শ্রেণিতে নতুন বই পেতে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধ্যবসায় ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে রিয়ানা জুলিয়েট গনসালবেছ। তার মা মেরিলিন কোড়াইয়া এ্যাসেমব্লিজ অব গড চার্চ স্কুলের একজন শিক্ষিকা। ছোট বোন রাইনা মেরি গনসালবেছও হলি ক্রস স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই পরিবারের দুই শিক্ষার্থী থাকায় এবং নিজে একজন শিক্ষিকা হওয়ায় কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ খুব কাছ থেকে দেখেছেন মেরিলিন কোড়াইয়া।
সদ্য মাধ্যমিক পাস করা মেয়ে রিয়ানার অধ্যবসায়ের গল্প তুলে ধরে মা মেরিলিন কোড়াইয়া বলেছেন, ‘ওরা প্যান্ডামিক টাইমে ক্লাস ফাইভের স্টুডেন্ট ছিল। এর আগে মোটামুটি বেশ ভালো রেজাল্টই ছিল। তারপরে যখন স্কুল আবার স্টার্ট হলো তখন বেশ গা-ছাড়া ভাব ছিল। তারপর যখন ক্লাস এইটে উঠল, তখন জানতে পারল নতুন কারিকুলাম হবে। এটি শোনার পর বেশ গা-ছাড়া ভাব ছিল স্টুডেন্টদের মধ্যে। তারপর ক্লাস নাইনে অর্ধেক পড়ার পরে আবার শুনল যে, পুরনো কারিকুলাম ফিরবে। তারপর দশম শ্রেণিতে বছর শুরু হলো। নতুন বই পেতে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে এই রেজাল্টের জন্য বাচ্চারা প্রচুর খেটেছে।’
বারবার কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে ২০২৬ ব্যাচের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মেরিলিন বললেন, ‘মানসিক চাপের কারণে বার বার শিক্ষার্থীদের মুড সুইং হচ্ছিল। আমার বাসায় দুজন শিক্ষার্থী থাকায় এবং আমি নিজেও একজন শিক্ষিকা হওয়ার ফলে অনেক কাছে থেকে দেখেছি শিক্ষার্থীদের এই অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম।’
রাজধানীর হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৪৮ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৯৮ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এ গ্রেড পেয়েছে ৪৮ জন।
হলি ক্রস কলেজের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা বললেন, ‘অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সম্মিলিত পরিশ্রম ও শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের ফল আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ভালো ফলাফল। বরাবরের মতো আমাদের শিক্ষিকারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করত, শিক্ষাবিষয়ক যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরাও শিক্ষিকার কাছে সাহায্য পেত।’




