রমজান এলেই বেড়ে যায় ফলের দাম

সংগৃহীত ছবি
রমজান এলেই বেড়ে যায় ফলের চাহিদা। প্রতিবছরের মতো এবারও একই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। দেশি-বিদেশি সব ফলের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে তারা। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে অস্বাভাবিক আকারে দেশি-বিদেশি ফলের দাম ।দাম বেশি থাকায় অনেকে ইফতারে জন্য প্রয়োজন বেশি হলেও কম ফল কিনছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ ,আমদানি ও পাইকাররা পরিবহনের খরচ বাড়ানোর দোহাই দিলেও প্রকৃত পক্ষে ব্যবসায়ী সিন্ডেকেট ঠিক আগের মতোই চলছে । তারা বলছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে এখনও শক্তিশালী অবস্থানে আছে।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতারা তেমনটাই জানান তারা ।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফার বদলে অতি-মুনাফার দিকে ঝুঁকছেন। ফলের বাজার ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারকে ফলের আমদানি মূল্য ও বিক্রির তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে।
আর বাজারে এখনও সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি খেজুরে। সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পর আমদানি দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু শুল্ক কমানোর সুবিধা
ক্রেতা পর্যায়ে পৌঁছেনি। গত চার-পাঁচ দিনে কেজিতে ৩০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছরের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ফলে আমদানি করা প্রিমিয়াম মানের খেজুর এখন ক্রেতার নাগালের বাইরে।
পাশাপাশি এই রমজানে ভালো মানের আপেল এখন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। গত বছর এ সময় কেজি ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মাল্টা ও কমলার ক্ষেত্রেও একই চিত্র; কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। চার-পাঁচ দিন আগে অন্তত ৩০ টাকা কমে কেনা গেছে ফল দুটি। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ।
দেশি ফলেরও বাজারে দাম তো বাড়ছে, তরমুজ ও কলার চাহিদা তুঙ্গে। পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রির বদলে সব জায়গায় প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর কেজি কেনা গেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বাংলা কলার ডজন কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। চার-পাঁচ দিন আগেও এ জাতের কলা কেনা গেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। যা গত রোজার তুলনায় অন্তত ২০ টাকা বেশি। গত বছরে রোজায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হয়েছিল।
এ ব্যাপারে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিযেশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন একটি জাতীয় পত্রিকাতে দেয়া বক্তব্যে বলেন, রমজানে দেশি-বিদেশি সব ফলের দাম বেশি। বিশেষ করে খেজুরের দাম লাগামহীন।
বিদেশি ফলের আমদানি ব্যয় কত আর পাইকারি পর্যায়ে সেগুলো কত দামে বিক্রি হচ্ছে তা যাচাই করা দরকার। নতুন সরকার যদি এখনই বাজারের লাগাম টানতে না পারে তাহলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

