আগামীর সময়

লাগাতার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর, দুইজনকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

লাগাতার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর, দুইজনকে তুলে নেয়ার  অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার প্রতিবাদে এবার লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম রোববার সকাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। কাজ বন্ধ আছে বহির্নোঙরেও।


আন্দোলন দমাতে দুইজনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিষদ নেতারা। বন্দর ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য।


বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, 'শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংগ্রাম পরিষদের দুই প্রবীণ নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। শক্তি প্রয়োগ হলে আরও কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমানো যাবে না।'


এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশিদের না দেয়ার ঘোষণার দাবিতে রোববার সকাল থেকে চলছে এই ধর্মঘট। পাশাপাশি বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ার দাবিও তুলেছে সংগ্রাম পরিষদ।


এনসিটির ইজারা আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দরে চলছে আন্দোলন। শুরুতে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে চলে কর্মসূচি।


প্রথম তিনদিন আট ঘণ্টা করে চলে কর্মবিরতি। পরের তিনদিন টানা কর্মবিরতি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার আসে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক।


টানা আন্দোলনে কার্যত অচল চট্টগ্রাম বন্দর। বিভিন্ন জেটিতে ১২টি ও বহির্নোঙরে আটকে আছে পণ্যবাহী অর্ধশতাধিক জাহাজ।


এই পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০ কর্মচারী ও শ্রমিককে রোববার সকালে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা।

    শেয়ার করুন: