আগামীর সময়

লেবুর দামে আগুন, শসার সেঞ্চুরি

লেবুর দামে আগুন, শসার সেঞ্চুরি

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র রমজানের বার্তা বইছে সারাবিশ্বে। আমাদের দেশে রোজা সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে সেই আগের মতো।


অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে সবজির দাম, বিশেষ করে বেগুন, লেবু ও কলার। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে শসা, কাঁচামরিচসহ আরও কয়েকটি পণ্য। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্য জেলা শহরের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।


ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবার নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই ব্যবসায়ীরা সেই পুরোনো কৌশল খুঁজছেন। যার ফলে দাম বেড়ে চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচনের কারণে যথাযথ বাজার তদারকি না থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,নতুন সরকার দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর না হলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ ভিন্ন তাঁরা মনে করছেন, চাহিদা অনুযায়ী কিছু পণ্যের সরবরাহে টান আছে। যার প্রভাব পড়েছে দামে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা দুদিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর দেড়শ ছুঁয়েছে বেগুন।

কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। বিক্রেতারা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। ইফতারে বেগুনি বানানোর জন্য লম্বা বেগুন ব্যবহার করা হয়। সপ্তাহখানেক আগে এ বেগুনের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। সেই হিসাবে এক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে সবজিটির দর।

এ ছাড়া কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়। কাঁচা পেঁপের কেজি ৮০ থেকে ১২০ ও উচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই দুটি সবজি অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে কেনা গেছে।

এর মাঝে গত সপ্তাহের চেয়ে বাজারে লেবুর সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। এখনও মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এদিকে হাতিরপুল বাজারে সবজি কিনতে আসা বিক্রেতারা জানান, বেগুনের কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছরই রোজার আগে এভাবে ব্যবসায়ীরা বেগুনের ‘ডাকাতি’ দাম নেন। ১০০ টাকার কমে লেবুর হালি পাওয়া যাচ্ছে না।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভরসা ব্রয়লার মুরগির বাজার এখনও চড়া। দুই-আড়াই মাস ধরে ১৫০ টাকার কিছু বেশি ছিল ব্রয়লারের কেজি। সপ্তাহদুয়েক আগে দর বেড়ে ১৮০ টাকার ঘরে স্থান করেছে।


আর পবিত্র রমজানে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল প্রতিকেজি ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া সোনালি জাতের মুরগির দর ঠেকেছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।

দুই-তিন দিন ধরে বাজারে কলার সরবরাহে ঘাটতি দেখা গেছে। এই সুযোগে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে। প্রতি ডজন বাংলা কলা কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে এই কলা কেনা গেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। একইভাবে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামের সবরি কলা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। এভাবে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দামের বরইয়ের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।


    শেয়ার করুন: