আগামীর সময়

৫০ বছরের গৌরবময় যাত্রা

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে মেঘনা গ্রুপের নতুন অঙ্গীকার

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে মেঘনা গ্রুপের নতুন অঙ্গীকার

প্রায় পাঁচ দশক আগে মোস্তফা কামালের হাত ধরে যে যাত্রার শুরু আজ তা এক মহীরুহ। ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি, হসপিটালিটি কিংবা আর্থিক খাত সবখানেই বিচরণ মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই)। দীর্ঘ পথচলায় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে ৫৭টি শিল্প ইউনিট ও ৬৫ হাজার কর্মীর এক বিশাল পরিবার এই শিল্প গ্রুপ।

শনিবার কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন অনুষ্ঠান ‘লিপ অব প্রগ্রেস’-এ উঠে আসে প্রতিষ্ঠানের নানা অর্জনের কথা। অনুষ্ঠানে আগামী দিনে বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন এমজিআই গ্রুপ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।

‘উপস্থিত এমজিআই পরিবার, অতিথি ও বন্ধুদের স্বাগত জানাই। আজ যারা প্রমোশন পেয়েছেন তাদের অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। লেভেল প্রোগ্রেস শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। আমাদের অর্জনের স্বীকৃতি। ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার’, বলছিলেন এমজিআই চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এমজিআই’র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। ‘গত ৫০ বছর দেশীয় বাজারে আমরা একটি শক্ত অবস্থানে এসেছি। বিগত বছরগুলোয় নানা প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকায় কিছু না কিছু ব্যাঘাত হয়েছে। কভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, তার আগে ইউক্রেন যুদ্ধ, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, তারও আগে ইরাক যুদ্ধ— আমাদের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং এগিয়ে যেতে হচ্ছে। অথবা খাপ খাইয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। কখনো কখনো এমন কিছু ঘটে যায় যেখানে আমাদের সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। আমাদের সিনিয়র লিডাররা ঠিক করবেন কীভাবে এসব চ্যালেঞ্জ উতরে যাব।’

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে নতুন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করেন মোস্তফা কামাল। ‘আমাদের বিভিন্ন ব্যবসায়, বা সরকার কিংবা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যারা প্রধান হন তাদের ধারণ করে কাজ করতে হবে। এখানে যারা কাজ করেন, তারা আরও বড় দায়িত্বে যাবেন। ধারণ করা মানে নিজ কাজ সঠিকভাবে করা। আপনারা আসলে পরিবার সমাজ তথা দেশের সম্পদ। আপনারা নিজের জন্য, দেশের জন্য, সমাজের জন্য একটু ভাবেন। পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা কেন পারছি না?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এছাড়া আগামী ৫০ বছর সামনে রেখে এমজিআইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানান পরিচালকরা। গুরুত্ব দেওয়া হয় টেকসই উন্নয়ন ও কর্মীদের আন্তরিকতার ওপর। অনুষ্ঠানে এমজিআই পরিচালক তানভীর মোস্তফা বলছিলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান শুধু স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নয়; এটি ভবিষ্যতের কথাও বলে। এমজিআই ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু আগামী ৫০ বছর আমাদের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানসিকতা দাবি করবে। আজকের পৃথিবী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিল্পকে বদলে দিচ্ছে, ভোক্তাদের প্রত্যাশা পরিবর্তিত হচ্ছে, মার্জিন কমে আসছে এবং প্রতিযোগিতাও দিন দিন আরও স্মার্ট হয়ে উঠছে।’

এমন পরিস্থিতে ভালো করা যথেষ্ট নয়, আত্মতুষ্টিও বিপজ্জনক। ‘আমাদের সেরাদের মধ্যে থাকতে হবে। আমি এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানাতে চাই। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের একটি স্পষ্ট ভিশন আছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আরও ক্যাশলেস, পেপারলেস, অটোমেশনভিত্তিক এবং এআই-ফোকাসড সংস্থায় পরিণত করা। এটাই হবে আমাদের আগামী দিনের নতুন গল্প। এমজিআই, যেকোনো বড় এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিষ্ঠানের মতোই, ধীরে ধীরে আরও লেয়ারড হয়ে উঠছে। বেশি প্রসেস, বেশি অ্যাপ্রুভাল, বেশি সাইন-অফ— এগুলো একটি বড় প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক বিষয়। কারণ একটি সংস্থায় শক্তিশালী সিস্টেম দরকার। কিন্তু যদি সেই সিস্টেম আমাদের ধীর করে দেয়, তাহলে নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে: আমরা কি শুধু প্রসেস ফলো করছি, নাকি সত্যিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি?’ জোর দিয়ে ব্যাখ্যা করছিলেন এমজিআই পরিচালক।

‘আমরা এমন লিডার চাই, যারা শুধু অপেক্ষা করবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলছিলেন, ‘তারা (লিডার) সমস্যা চিহ্নিত করবে, প্রয়োজন হলে সেটাকে এস্কেলেট করবে এবং সমাধানের পথে এগিয়ে যাবে। এটাই আমরা আশা করি। প্রমোশন মানে বড় দায়িত্ব, বড় প্রত্যাশা। ইনোভেশন সবসময় বড় প্রজেক্ট দিয়ে শুরু হয় না। অনেক সময় ছোট ছোট উন্নতির মাধ্যমেই বড় পরিবর্তন আসে। আগামী ৫০ বছর তাদেরই হবে যারা দ্রুত চলে, স্মার্ট চিন্তা করে এবং পরিষ্কারভাবে কাজ করে। মনে রাখবেন, অগ্রগতি কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে না। অগ্রগতি আসে সচেতন প্রচেষ্টা থেকে। আমাদের নিয়ত যদি শক্ত হয়, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও শক্ত হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা একসাথে এগিয়ে যাব এবং একের পর এক নতুন মাইলফলক অতিক্রম করব।’

একপর্যায়ে ৩৪ জন কর্মকর্তার হাতে পদোন্নতিপত্র তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এমজিআই পরিচালক ব্যারিস্টার তাসনীম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘আজকের সুন্দর থিম— লিপ অফ প্রগ্রেস। এটা যেন আমাদের কমিটমেন্ট আরও মজবুত করে। আমাদের ডেডিকেশন আরও গভীর করে। আমাদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন আরো বড় উচ্চতায় পৌঁছানোর অনুভব তৈরি করে। আপনারা জানেন, গত কয়েকবছরের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও একটা জিনিস স্পষ্ট ছিল। এমজিআই শুধু সারভাইভ করেনি। আমরা আবারও কান্ট্রির টপ ইমপোর্টার ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। কঠিন সময়ের মাঝেও আমরা সাফল্য পেয়েছি।’

দুঃসময়ে পথ দেখানো ও কারো মধ্যে সম্ভবনা দেখলে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার তাসনীম মোস্তফা বলছিলেন, ‘এমজিআই এই আকার ও স্কেলে বড় হয়ে শুধু যদি স্টেবলভাবে এবং ইফিশিয়েন্টভাবে চলে তাহলে এটা দেশের ইকোনমিতে পজিটিভ প্রভাব ফেলবে। সবাই মিলে যদি সঠিকভাবে কাজ করি— এই কালেক্টিভ পারফরম্যান্সটাই এমজিআইয়ের আসল শক্তি। এজন্য অবশ্যই আমাদের ফাউন্ডার সিএমডি স্যারের কথা বলতে হয় এবং তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করতে হয়। আমাদের সবার পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই এবং তিনি শুধু একজন ব্যবসায়িক নেতা না, তিনি আমাদের জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন অভিভাবক। উনার দৃঢ় মনোভাব, ডিসিপ্লিন এবং দেশের জন্য কাজ করার ভালোবাসা দিয়ে এমজিআই আজকে এতদূর এসেছে। আর একই সাথে আমাদের শ্রদ্ধেয় ভিসি ম্যাডামও উল্লেখযোগ্য। উনার নীরব পরিশ্রম, ত্যাগ এমজিআইকে এই জায়গায় আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই, শিখতে চাই এবং নিজের সেরাটা দিতে চাই।’

সাফল্যের এই ধারা বজায় রেখে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এমজিআই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

    শেয়ার করুন: