৭ মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় দেশের ব্যাংকিং খাতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডলারের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ১৬টি ব্যাংক থেকে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
সবমিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ৪১৫ কোটি ডলার বা ৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজারে চরম অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। সে সময় প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হলেও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো যায়নি।
গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। বিপরীতে, এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার রোধে বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বেশি হলেও চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় ডলারের দাম কমে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সক্রিয়ভাবে ডলার কিনছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। ডলারের দর অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে ভারসাম্য বজায় রাখছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল রিজার্ভ, যা পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।

