এমক্যাশে মার্কিন বিনিয়োগ, দাম বাড়ছে শেয়ারের

সংগৃহীত ছবি
দেশের দ্রুত বর্ধনশীল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতে নতুন গতি আনতে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত ৩৯৫তম সভায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসিকে এমক্যাশের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এমক্যাশের পরিশোধিত মূলধন ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ইসলামী ব্যাংক কমপক্ষে ৫১ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখবে এবং বি১০০ হোল্ডিংস সর্বোচ্চ ৪৮.৯৯৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবে। বিষয়টি এমক্যাশের পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
বিদেশি বিনিয়োগের খবরে ইতোমধ্যে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দুপুর একটা পর্যন্ত প্রায় ১০ শতাংশ দাম বেড়ে ৪১ টাকায় লেনদেন হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।
বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস খাত গত এক দশকে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এমএফএস অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি ৯০ লাখ এবং মাসিক লেনদেন প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে রয়েছে বিকাশ, নগদ এবং রকেট। এই তিন প্রতিষ্ঠানই মোট বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে বিকাশের বাজার অংশ প্রায় ৩৯.৯ শতাংশ, নগদের ১৮.১ শতাংশ এবং রকেটের ১১.৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বড় বাজারে নতুন করে শক্তিশালী বিনিয়োগ এলে প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে যেতে পারে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার ফলে এমক্যাশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে বিদেশি অংশীদারের প্রযুক্তি সহায়তায় উন্নত অ্যাপ, দ্রুত লেনদেন এবং নিরাপদ ডিজিটাল সেবা চালু করা সম্ভব হবে। গ্রাম ও শহরে এজেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহকভিত্তি বাড়াতে পারবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে অংশীদারত্বের কারণে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স, ই-কমার্স পেমেন্ট ও ডিজিটাল লোনের মতো সেবা চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহককে এমক্যাশ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এমক্যাশ লাভজনক হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে ইসলামী ব্যাংকের আয়ের বড় উৎস হবে। ডিজিটাল ফাইন্যান্স ব্যবসা থেকে ফি ও কমিশন আয়ও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি হলে ব্যাংকের মূল্যায়ন বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকের মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে এর প্রভাব শেয়ারমূল্যেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে এমক্যাশ যদি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে, তাহলে তা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্যও দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

