আগামীর সময়

বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা

আগামীর সময় গ্রাফিক্স

দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের চারটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা যৌথভাবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সংস্থাগুলো অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদার ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিডা, বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নতুন বিনিয়োগের গতি বাড়বে।

বিডার তথ্য মতে, ১৮০ দিনের এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল করা এবং দেশি–বিদেশি বিনিয়োগের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় মোট ২৫টি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে রয়েছে ১৩টি উদ্যোগ, যা মোট পরিকল্পনার প্রায় ৫০ শতাংশ। বিনিয়োগ সহায়তা জোরদারে রয়েছে ৭টি উদ্যোগ (৩০ শতাংশ) এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে রয়েছে ৫টি উদ্যোগ (২০ শতাংশ)।

পরিকল্পনার অবকাঠামো খাতে বন্দর আধুনিকায়ন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে ‘রেডি-টু-ইউজ’ প্লট সম্প্রসারণ, ফ্রি ট্রেড জোন ও ডিফেন্স ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা এবং জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিনিয়োগ সহায়তা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পিপিপিএ—এই পাঁচটি সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ–দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ‘বাংলাবিজ’ নামে একক বিনিয়োগসেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এছাড়া বৃহৎ কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমস্যার লক্ষ্যভিত্তিক সমাধান ও চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর উদ্যোগও রয়েছে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন খাতে দেশের শিল্প খাতের ম্যাপিং করা, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে নির্দিষ্ট খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া এবং ব্লু ইকোনমি উন্নয়নের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, মেরিকালচার ও রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর বিষয়ও রয়েছে।

এ বিষয়ে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বাস্তবায়নমুখী সংস্কারের মাধ্যমে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো।

আশিক চৌধুরীব বললেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং যারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে।

    শেয়ার করুন: