আগামীর সময়

নির্বাচনের আগে নতুন মুদ্রানীতিতে অপরিবর্তিত সুদহার

নির্বাচনের আগে নতুন মুদ্রানীতিতে অপরিবর্তিত সুদহার

সংগৃহীত ছবি

নীতিসুদ হার অপরিবর্তিত রেখে বছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল মাথায় রেখে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সুদহার রইল ১০ শতাংশেই।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সোমবার জানুয়ারি-জুনের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।


তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি... আমরা আশাবাদী, এটাও কমবে। অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।'


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও রোজার কারণে মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।


সবশেষ গত জানুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগের মাসেও যা ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি আগামী দুই মাসে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতিসুদ হার না কমানোর পরামর্শ দিয়ে রেখেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।


নীতি সুদহার বেশি রাখার কারণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে দাবি করে গভর্নর বলেন, 'এর সুবিধা এখন পাচ্ছি আমরা। রেমিটেন্সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে।'


রিজার্ভ এখন ভালো অবস্থানে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'গত অগাস্ট থেকে আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি। আমাদের রিজার্ভ বাড়ছে।'


আগের সিদ্ধান্তেরই ধারাবাহিকতায় এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশে ঠিক রেখে এসডিএফ হার ৮ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বার ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ।


এ খাতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে সবশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ করা হয়। এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশ ও এসডিএফ ৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


২০২২ সালের আগস্টে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে শুরু করলে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এক লাফে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে।


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সে বছরের শেষ দিক থেকে নীতিসুদ হার বাড়াতে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হয় ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।


অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পুরোমাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৪ সালের আগস্টে কমে আসতে শুরু করে মূল্যস্ফীতি।


২০২৫ সালের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে আসলেও এরপর টানা তিন মাস বেড়ে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ হয়।

    শেয়ার করুন: