কর ও ভ্যাট জটিলতায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে

দেশের রাজস্ব কাঠামোয় পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ব্যবসা ও ভোক্তা— উভয় পর্যায়ে চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বিদ্যমান উৎসে কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ব্যবস্থার জটিলতায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, নগদ প্রবাহে সংকট তৈরি হচ্ছে এবং কার্যকর করহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনের সম্মেলন কক্ষে ভয়েজ ফর রিফর্মস আয়োজিত ‘পরোক্ষ করের ওপর অতি নির্ভরশীলতা: অর্থনীতির ওপর বহুমুখী প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, দেশের মোট রাজস্বের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে। কিন্তু দেশে কর প্রদানের সংস্কৃতি দুর্বল এবং কর দিতে গিয়ে হয়রানির শঙ্কা থাকায় অনেকেই কর দিতে অনাগ্রহী।
১৩ ধরনের কাস্টমস ডিউটি রেট আছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি
তিনি বলেছেন, বর্তমানে কাস্টমস থেকে রাজস্ব সংগ্রহের হার প্রায় ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ। তবে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী ভবিষ্যতে এ হার কমিয়ে আনতে হবে। তাই পরোক্ষ কর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে হবে।
মাসরুর রিয়াজ আরও বলেছেন, দেশে আয় বৈষম্য এরই মধ্যে উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। করনীতিকে দারিদ্র্য বিমোচন বা বৈষম্য কমানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ওপর পরোক্ষ করের চাপ উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ব্যবসা পরিচালনার খরচ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম বা ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় সময় ও ব্যয় দুটিই বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, কর ও ভ্যাট সংস্কার নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা হলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তার মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ ধরনের কাস্টমস ডিউটি রেট রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি।




