আগ্রহের কেন্দ্রে মিউচুয়াল ফান্ড

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শেয়ারবাজারে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড। বিগত জুন ও জুলাই মাসের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক অস্থিতিশীলতা ও দরপতনের মধ্যেও এই খাতটি বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি মুনাফা এনে দিচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি এই প্রবল আগ্রহের মূল কারণ মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিগত পরিবর্তন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেওয়া রূপান্তর নির্দেশিকাসহ নানামুখী সংস্কার মূলক সিদ্ধান্তের ঘোষণা এই খাতের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া বাজারে এমন অনেক মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে যেগুলোর বর্তমান বাজারদর অত্যন্ত নিচে—এমনকি মাত্র ৪ টাকা থেকে ৫ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। এদের নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ভালো থাকা সত্ত্বেও ফান্ডের দাম অস্বাভাবিক কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা এগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিমুক্ত ও লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। ৪ টাকা দামের শেয়ারে সামান্য দর বৃদ্ধিও রিটার্নের দিক থেকে বড় প্রভাব ফেলে, যা বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটায় উৎসাহিত করছে।
ডিএসই’র তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূলত মধ্য জুন থেকে থেকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের জোরালো আগ্রহ ও বড় ধরনের ক্রয়চাপ দেখা যায়। বাজেট পরবর্তী ইতিবাচক মনোভাবের ওপর ভর করে ওই সপ্তাহে খাতটি ৪.৬ শতাংশ রিটার্ন অর্জন করে যৌথভাবে শীর্ষ গেইনারের তালিকায় জায়গা করে নেয়। এরপর জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্ক্রিপ নেটিং ও মার্জিন রুল সংশোধনের আশায় বাজার যখন ৫৯০০ পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করে, তখন ১৬ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ড খাত থেকে ৫.০ শতাংশ রিটার্ন আসে।
পরবর্তীতে জুলাইয়ের শেষভাগে এসে নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১০০ পয়েন্ট বা ১.৬ শতাংশ হারিয়ে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে। পুরো বাজারের অধিকাংশ খাতের শেয়ার যখন দর হারাচ্ছিল, তখন ২৩ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ড খাতটি সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে ৯.৩ শতাংশ বিশাল রিটার্ন দিয়ে বাজারের একক শীর্ষ লাভজনক খাতে পরিণত হয়।
সর্বশেষ ৬ আগস্ট সমাপ্ত সপ্তাহেও প্রধান সূচক ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেলেও মিউচুয়াল ফান্ডের উর্ধ্বমুখী যাত্রা ব্যাহত হয়নি। বিদায়ী সপ্তাহে খাতটি ৪.৯ শতাংশ রিটার্ন দিয়ে আবারও বাজারের একক শীর্ষ লাভজনক খাতের মর্যাদা ধরে রাখে।
অস্থিতিশীল বা পতনের বাজারে একক কোম্পানির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতনের ঝুঁকি থাকে, কিন্তু মিউচুয়াল ফান্ড পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় ঝুঁকি তুলনামূলক অনেক কম। একই সাথে আকর্ষণীয় কর সুবিধা ও নিয়মিত লভ্যাংশ পাওয়ার সুবিধার কারণে শেয়ারবাজারের এই মন্দা পরিস্থিতিতে মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।




