সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা হারালো শেয়ারবাজার

ছবিঃ আগামীর সময়
বিদায়ী সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতনের কবলে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসই মূল্যসূচক নিম্নমুখী থাকায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের।
ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন ও প্রধান মূল্যসূচক—উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে সপ্তাহজুড়ে। তবে বাজারে বড় পতন সত্ত্বেও পরিমাণ বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনের।
ডিএসইর সাপ্তাহিক তথ্য অনুযায়ী গেল সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১৭২টির শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম। আর কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি ২২টি প্রতিষ্ঠানের।
এমন পতনের ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা বা ২.৪৮ শতাংশ।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে বড় ব্যবধানে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স। সপ্তাহজুড়ে সূচকটি ১৪৮.৬৬ পয়েন্ট বা ২.৭৭ শতাংশ হারিয়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২১৯.৭৪ পয়েন্টে, যা গত সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৫ হাজার ৩৬৮.৪০ পয়েন্ট।
অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৮৫.৮৯ পয়েন্ট বা ৪.১৬ শতাংশ। বর্তমানে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০.৩৬ পয়েন্টে। এছাড়া ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক সপ্তাহজুড়ে ১৯.৮৪ পয়েন্ট বা ১.৮৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯.৫৮ পয়েন্টে। তবে ছোট মূলধনী কোম্পানির সূচক ডিএসএমইএক্স গত সপ্তাহে ১৩৪.৩৮ পয়েন্ট বা ১৪.৪৪ শতাংশ বেড়ে ছিল ইতিবাচক ধারায়।
এদিকে সূচক ও মূলধন কমলেও গত সপ্তাহে লেনদেনের গতি বেড়েছে ডিএসইতে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বা ২৫.৭৮ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

