৩ বছরে শেয়ারবাজার জিডিপির ৪০ শতাংশ করতে চায় বিএসইসি, সহায়তায় এডিবি

সংগৃহীত ছবি
দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়ন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় বাজারের কাঠামোগত সংস্কার এবং উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। এ সময় শেয়ারবাজার উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এডিবি।
সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিএসইসির প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (১৫ মার্চ) কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এ সময় কমিশনার ফারজানা লালারুখ, পরিচালক মো. আবুল কালাম এবং যুগ্ম পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ গোলাম মাওলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এডিবির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মনোহরী গুণাবর্ধনা, সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট ও মিশন লিডার, ফাইন্যান্স সেক্টর অফিস (এসডি৩-এফআইএন)। এছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার (ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর) মোহাম্মদ রাশেদ আল হাসান এবং প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অফিসার আজিজুল কাদির, এসএআরডি।
বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের জিডিপির তুলনায় শেয়ারবাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ থেকে কমপক্ষে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন। এ লক্ষ্য অর্জনে বড় আকারের কোম্পানি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে কর ও নীতিগত সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাজারকে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও)-এর সুশাসন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কমিশনের কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন বাড়ানোর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী করতে বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। বাজারে বড় ঋণগ্রহীতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়, যেখানে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করবে। বড় ঋণগ্রহীতাদের শেয়ারবাজারের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহিত করার জন্য কমিশন তার আইনি ক্ষমতার আওতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বড় বাজার অংশীদারিত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সভায় এডিবি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে। বিশেষ করে কার্যকর বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড গঠনের জন্য সম্ভাব্য মডেল নির্ধারণে সমীক্ষা পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকের শেষে উভয়পক্ষই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।

