আগামীর সময়

জ্বালানি অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপে গ্রামীণফোন

জ্বালানি অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপে গ্রামীণফোন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোন ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর একটি আগাম পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের মুখে কোম্পানিটির আয় ও মুনাফা কিছুটা কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসি) এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সংকটে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও লজিস্টিক খরচ বেড়ে গেছে। এছাড়া দেশের দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চলাচলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ও প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক পরিচালনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ এবং কর-পূর্ব মুনাফা প্রায় ৩ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহক সেবা সচল রাখতে এবং নেটওয়ার্কের মান ধরে রাখতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য গ্রামীণফোন বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। কোম্পানিটি তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৩৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন ডিভিডেন্ডসহ পুরো বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের মুনাফা প্রদান করেছে।

মঙ্গলবারের বাজার চিত্র অনুযায়ী গ্রামীণফোনের শেয়ার দর শেয়ারবাজারে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে এর শেয়ার ২৫০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৫৪ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। সর্বশেষ আগের দিনের চেয়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা কমে টাকা ২৫১ টাকা ১০ পয়সায় ক্লোজিং হয়েছে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে গ্রামীণফোন একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য শেয়ার হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে তাদের নিয়মিত ডিভিডেন্ড প্রদানের রেকর্ডের কারণে। সাময়িকভাবে আয় কিছুটা কমার আভাস দিলেও গ্রামীণফোনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং বড় গ্রাহক ভিত্তি দীর্ঘমেয়াদে তাদের ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তবে জ্বালানি তেলের দাম এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানীকৃত যন্ত্রপাতির খরচ বৃদ্ধি পাওয়া টেলিকম খাতের জন্য আগামীতে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তারা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরবে।

    শেয়ার করুন: