আগামীর সময়

ডিএসই মূল বোর্ডে অন্তর্ভুক্তি চায় মামুন অ্যাগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ

ডিএসই মূল বোর্ডে অন্তর্ভুক্তি চায় মামুন অ্যাগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ

সংগৃহীত ছবি

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত মামুন অ্যাগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেই সম্প্রতি এই আবেদন জমা দিয়েছে কোম্পানিটি।

এ বিষয়ে কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ ইমদাদুল হক জানান, মূল বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তারা ডিএসইতে আবেদন করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে জুনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা এ প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

ডিএসইর এক কর্মকর্তা জানান, কোম্পানির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে বোর্ড সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে কোম্পানিটি মূল বোর্ডে স্থানান্তরিত হতে পারবে।

এসএমই প্ল্যাটফর্মের যোগ্য বিনিয়োগকারী অফার (কিউআইও) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা এবং ন্যূনতম তিন বছর তালিকাভুক্তির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। মামুন অ্যাগ্রোর পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা এই শর্ত পূরণ করে।

ফার্মাসিউটিক্যাল ও কেমিক্যাল খাতে পরিচালিত কোম্পানিটি কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, আগাছানাশক, সার ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন ও আমদানি করে থাকে। ২০২২ সালে এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্তির আগে পুঁজিবাজার থেকে ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানিটির মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১১১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৮ কোটি টাকার বাণিজ্যিক পাওনা, মজুদ ও অগ্রিমসহ উল্লেখযোগ্য অংশই চলতি সম্পদ। অন্যদিকে, অ-চলতি সম্পদের পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩৬ কোটি টাকা স্থায়ী সম্পদ।

বর্তমানে কোম্পানির মোট দায় ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে ১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা স্বল্পমেয়াদি ঋণ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ সময়ে বীজ বিক্রি বেড়ে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় উন্নীত হলেও কীটনাশক বিক্রি কিছুটা কমে ৩০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। পাশাপাশি উদ্যোক্তা-পরিচালকদের জন্য অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি এখনও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ডিভিডেন্ড দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

প্রথমে গত ৩১ ডিসেম্বর এজিএমের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ২৫ ফেব্রুয়ারি পুনঃনির্ধারণ করা হয়। তবে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুসরণে জটিলতার কারণে বাংলাদেশ হাইকোর্ট থেকে অনুমোদন না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে এজিএম স্থগিত করা হয়।

কোম্পানি জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং অনুমতি মিললেই নতুন করে এজিএমের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

    শেয়ার করুন: