বাজেটের প্রভাব
শেয়ারবাজারে শতাধিক পয়েন্ট বাড়ল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে একগুচ্ছ সংস্কারের ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় রবিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক শতাধিক পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শেয়ারবাজারে হঠাৎ এই চাঙ্গা ভাব আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনা। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, শেয়ার কেনার পর তা বিক্রির জন্য বিনিয়োগকারীদের আর দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে না। লেনদেন নিষ্পত্তির সময় ধাপে ধাপে কমিয়ে এনে যেদিন শেয়ার কেনা হবে, সেদিনই যেন তা বিক্রি করা যায়, সেই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই নিয়ম চালু হলে বাজারের তারল্য বা টাকার প্রবাহ অনেক বাড়বে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন খাটাতে পারবেন।
এ ছাড়া নতুন কোম্পানির আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও অনলাইনে করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আবেদন থেকে শুরু করে কোম্পানির অনুমোদন পাওয়ার দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, ভোগান্তি ও সময়- দুটোই অনেক কমে আসবে।
সেই সঙ্গে ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে আইপিও খরচ কমানো এবং করপোরেট বন্ড ও পৌর বন্ডের মতো নতুন নতুন নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম চালুর আশ্বাসও মিলেছে এই বাজেটে, যা ব্যাংক খাতের ওপর ঋণের চাপ কমাবে। পাশাপশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে তাদের অর্জিত মুনাফা ও শেয়ার বিক্রির টাকা মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সহজ নিয়ম করার কথাও বলেছেন অর্থমন্ত্রী, যা বিদেশি তহবিল আকর্ষণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন আগামীর সময়কে জানালেন, বাজেট-পরবর্তী সময়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেলেও এর স্থায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কিছুটা নিরুৎসাহিত হওয়া, নতুন কমিশনের প্রতি আস্থা এবং বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় শেয়ারবাজারকে সম্ভাবনাময় মনে করায় বাজারে অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। তবে সাময়িক উত্থানের পর অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে বাজার আবার চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের আবেগ নয়, তথ্য ও মৌলভিত্তির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করা উচিত। তাহলেই বাজারের বর্তমান ইতিবাচক ধারা টেকসই হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রবিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০৪.৯৫ পয়েন্ট বা ১.৯০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬২৫.৩৪ পয়েন্ট। এদিনে সূচকের এই উত্থানের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের গতিও ছিল বেশ চাঙ্গা। লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ১১৯.৮১ কোটি টাকা বেড়েছে। এদিকে সিএসইর সার্বিক সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৪৭.৬২ পয়েন্ট বা ০.৯৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৩.৩৩ পয়েন্টে।
এদিনে বাজারে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, যার মধ্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোই ছিল বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় পুরো বাজারেই তার ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানিক আগামীর সময়কে বললেন, অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেট শেয়ারবাজার সহায়ক হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগের চেয়ে আস্থা বাড়তে শুরু করেছে। তবে দেখতে হবে বাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবচণতা কতদিন স্থায়ী হয়।
এদিকে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, বাজেটে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনা এবং আইপিওব্যবস্থা ডিজিটাল করার যে দূরদর্শী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি এসব উদ্যোগ শেয়ারবাজারের চেহারা পুরোপুরি বদলে দেবে।


