আগামীর সময়

প্রকৌশল খাতে মুনাফা কমল ১৬ কোম্পানির

প্রকৌশল খাতে মুনাফা কমল ১৬ কোম্পানির

সংগৃহীত ছবি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক চিত্রে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেলেও বড় একটি অংশে মুনাফা কমার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪টি কোম্পানি দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ১৬টি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ৬টি কোম্পানির আয় বেড়েছে, ১১টি কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে লোকসানে এবং একটি কোম্পানির আয় অপরিবর্তিত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব কোম্পানির আয় কমেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিডি অটোকারস, বিএসআরএম লিমিটেড, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল, জিপিএইচ ইস্পাত, ইফাদ অটোস, কেডিএস এক্সেসরিজ, মীর আক্তার, মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল ম্যাশিনারি, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, ন্যাশনাল টিউবস, নাভানা সিএনজি, ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোড, রংপুর ফাউন্ড্রি, রানার অটোমোবাইলস এবং ওয়ালটন হাইটেক।

বিডি অটোকারস দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ পয়সা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’২৫)কোম্পানিটির ইপিএস ৫ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৬ পয়সা।

বিএসআরএম লিমিটেডের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ২ টাকা ৬৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৯৭ পয়সা। তবে ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭৯ পয়সায়, যা আগের বছরের ৬ টাকা ৭৪ পয়সার তুলনায় সামান্য বেশি।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে, যা আগের বছরের ২১ পয়সা থেকে কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা।

ডমিনেজ স্টিল দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭ পয়সা লোকসানে পড়েছে, যেখানে আগের বছর ১ পয়সা আয় ছিল। ছয় মাসে কোম্পানিটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ৯ পয়সা।

জিপিএইচ ইস্পাতের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৫১ পয়সা থেকে অনেক কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ৬৫ পয়সা।

ইফাদ অটোস দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৮ পয়সা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ৪৬ পয়সা থেকে কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস ১৭ পয়সা, যা আগের বছরের ২৫ পয়সা থেকে কম।

কেডিএস এক্সেসরিজ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৫ পয়সা ইপিএস করেছে, আগের বছর যা ছিল ৪৯ পয়সা। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা, যা আগের বছরের ১ টাকা ৫ পয়সার তুলনায় কম।

মীর আক্তার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৭ পয়সা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ৫২ পয়সা থেকে কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ৭৩ পয়সা।

মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল ম্যাশিনারি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০ পয়সা লোকসানে পড়েছে, যেখানে আগের বছর ২৬ পয়সা আয় ছিল। তবে ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কম।

নাহী অ্যালুমিনিয়াম দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৮ পয়সা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ১২ পয়সা থেকে কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল ২৮ পয়সা।

ন্যাশনাল টিউবস দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৬ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে, যেখানে আগের বছর ২৪ পয়সা আয় ছিল। ছয় মাসে কোম্পানিটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩৬ পয়সা আয়।

নাভানা সিএনজি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ পয়সা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ৪ পয়সা থেকে কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল ৬ পয়সা।

ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোড দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৫ পয়সা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ৪৪ পয়সা থেকে কম। ছয় মাসে কোম্পানিটি ১৪ পয়সা লোকসানে রয়েছে, যেখানে আগের বছর ৪৫ পয়সা আয় ছিল।

রংপুর ফাউন্ড্রি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ১ টাকা ২ পয়সা থেকে সামান্য কম। ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১৮ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল ২ টাকা ১৯ পয়সা।

রানার অটোমোবাইলস দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ পয়সা লোকসান করেছে, যেখানে আগের বছর ৩৫ পয়সা আয় ছিল। তবে ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৬ পয়সা, যা আগের বছর ৩৭ পয়সা লোকসান ছিল।

ওয়ালটন হাইটেক দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪ টাকা ২৭ পয়সা ইপিএস করেছে, যা আগের বছরের ৪ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে কম। তবে ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা, যা আগের বছরের ইপিএস ৯ টাকা ১৪ পয়সার তুলনায় বেশি।

    শেয়ার করুন: