আভিভা ইক্যুইটির মানি লন্ডারিং খোঁজে সিআইডি
- জরিমানা ২০ কোটি টাকা

সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের দায়ে শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ১০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে আরও ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিসহ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসা কর্মকাণ্ডে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
গঠিত তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) সদস্যভুক্ত স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টকে ১০ কোটি এবং প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানির সচিব আরিফ আবদুত তাওয়াব, হিসাব ও অর্থ ব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার, উপব্যবস্থাপক বরুণ চন্দ্র সমাদ্দার, সহকারী ব্যবস্থাপক শারমিন আরা, ব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী মাসুদ ভূঁইয়া এবং অ্যাকাউন্টস ইন চার্জ মোহাম্মদ সাইফুল চৌধুরীকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৭ লাখ টাকা।
বিএসইসির সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। এ কারণে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএসইসির আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আভিভা ইক্যুইটির কর্মকাণ্ডে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্তের আওতায় আসছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন।
তথ্যমতে, আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের আগের নাম ছিল রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক খাতের আলোচিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আভিভা ফাইন্যান্সের আগের নাম ছিল রিলায়েন্স ফাইন্যান্স। ২০২০ সালে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের নাম পরিবর্তন করে আভিভা ফাইন্যান্স করা হয়। একই সময়ে রিলায়েন্স ব্রোকারেজের নাম পরিবর্তন করে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট রাখা হয়। আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরিয়ে দেয়। এর আগে অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত পি কে হালদার ২০০৯ সালে আভিভা ফাইন্যান্সের তৎকালীন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।



