শেয়ারবাজারে ইতিবাচক উত্থান, মূলধন ও সূচকে বড় লাফ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারায় ফেরার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের বড় দরপতন কাটিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও সূচক দুটোই বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।
সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসই বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহের একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় দুই সপ্তাহ পর আবার ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছায়। সপ্তাহ শেষে প্রধান সূচকটি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৯১ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১.১ শতাংশ এবং ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ০ শতাংশ বেড়েছে।
বাজার মূলধনের দিক থেকেও সপ্তাহটি ইতিবাচক ছিল। ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে মূলধন বেড়েছে ৩ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৩৫টির এবং ৮৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সূচক ও বাজার মূলধন বাড়লেও সামগ্রিক লেনদেনের গতি ছিল কিছুটা ধীর। গত সপ্তাহে বাজারে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা (বা ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন টাকা), যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ০ দশমিক ৩ শতাংশ বা প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কম।
লেনদেনের দিক থেকে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে বস্ত্র খাত, ওষুধ ও রসায়ন খাত এবং প্রকৌশল খাতে।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া একক কোম্পানির শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। প্রতিদিন গড়ে ৩৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এই কোম্পানির। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল আইটি কনসালট্যান্টস এবং তৃতীয় স্থানে সামিট এলায়েন্স পোর্ট। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা করে নেয় ফারইস্ট নিটিং, সায়হাম কটন, বেক্সিমকো, এমএল ডাইং, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, আর্গন ডেনিমস এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা এবং বিভিন্ন খাতের ভালো শেয়ারগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। ফলে বাজারে নতুন করে শেয়ার কেনার আগ্রহ তৈরি হয়।
তবে এই ইতিবাচক ধারার মধ্যেও কিছু উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ সংকট, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্জিনসংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। এ কারণে সপ্তাহের মাঝপথে অনেককে মুনাফা তুলে নিতেও দেখা গেছে।
অধিকাংশ খাতই গত সপ্তাহে লাভজনক অবস্থায় ছিল। দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল সাধারণ বিমা খাত, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত এবং বস্ত্র খাত। এ ছাড়া সেবা ও আবাসন এবং বিবিধ খাতও ভালো মুনাফা দিয়েছে। বিপরীতে সিমেন্ট, কাগজ ও মুদ্রণ এবং টেলিকমিউনিকেশন খাতে সামান্য দরপতন লক্ষ করা গেছে।
সপ্তাহ জুড়ে দর বৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এফএএস ফাইন্যান্স এবং সাইহাম টেক্সটাইল। অন্যদিকে দর হ্রাসের তালিকায় শীর্ষে ছিল রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, মেঘনা পেট এবং দুলামিয়া কটন। বাজারে সূচক বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, পূবালী ব্যাংক এবং বেক্সিমকো ফার্মা। বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া সূচকে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
করপোরেট খাতে লভ্যাংশ ঘোষণার ভিড়ে কয়েকটি বড় কোম্পানি আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ওয়ালটন হাইটেক ১৭৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। স্কয়ার ফার্মা ১২০ শতাংশ নগদ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ২৫ শতাংশ নগদ ও ২৫ শতাংশ বোনাস এবং বেভন ফার্মা ও এনভয় টেক্সটাইল যথাক্রমে ২১ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া আগামী ২ আগস্ট সোনালী লাইফ ও বেক্সিমকো ফার্মার লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারিত রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। আমানতকারীদের জরুরি চিকিৎসাসহ পারিবারিক অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সীমা বাড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দেশীয় করপোরেট ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা ডিএসইতে নতুন করে আস্থার আবহ তৈরি করেছে।







