ঈদের ছোঁয়ায় রেকর্ড ভাঙা রেমিট্যান্স

ঈদ মানে বাড়তি আনন্দ! সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দৈনন্দিন খরচ। এই উদ্বৃত্ত ব্যয় সামাল দিতে পরিবারের কর্তারা নানা পরিকল্পনার ছক আঁকেন। তবে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী পরিবারের এই বাড়তি আয় সংস্থান সাধারণত রেমিট্যান্স দ্বারা মাপা যায়। প্রতি বছরই ঈদ এলে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পারদ যেন হু হু করে বেড়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় নতুন নতুন রেকর্ডের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হয় গত ঈদুল ফিতরের সময় তথা মার্চ মাসে। তখন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৭৫ কোটি ডলার। আর আসন্ন ঈদ কেন্দ্র করে মাত্র ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৯৮ কোটি ডলার। দৈনিক গড় হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবারের ঈদের মাসে রেমিট্যান্স ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টির সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ঈদুল ফিতরের সময় আগের সব রেকর্ড ভেঙে রেমিট্যান্স আয় হয়েছিল প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার। একই বছর ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল ২৯৭ কোটি ডলার। তবে সে বছর ৭ জুন ঈদ হওয়ায় পরের মাসেও প্রবাসী আয় উচ্চ ধারা অব্যাহত ছিল।
নারায়ণগঞ্জের এক প্রবাসীর স্ত্রী আফিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, কোরবানি, উৎসবের কেনাকাটা এবং আনুষঙ্গিক খরচের কারণে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠান, যা রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে হুন্ডির কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আগে বিদেশে রেমিট্যান্সের ডলার কেনা হয়ে যেত, আর তার অর্থ পাচারকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকায় পরিশোধ করা হতো। এই হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ ও পাচার কমানোর ফলে এখন রেমিট্যান্স প্রবাহে জোয়ার দেখা যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ‘ঈদের সময় সাধারণত প্রবাসীরা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে বেশি অর্থ পাঠান, ফলে এ সময়ে রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা যায়।
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকার ও ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব এখন দৃশ্যমান। দেশের সর্বোচ্চ পাঁচটি রেকর্ডই ঈদ কেন্দ্র করে হয়েছে।’






