মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসে সর্বোচ্চ
গাড়ি ভাড়া, পণ্যমূল্য এখন অচেনা
- জরিপের তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস
- তেল-গ্যাসের দামে চড়ছে সবকিছুর মূল্য

সংগৃহীত ছবি
বছরখানেক আগের গাড়িভাড়া, পণ্যমূল্য এখন অচেনা। গত দুই-তিন মাসে আরও গতি পেয়েছে খাবারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম। এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই দফায় দফায় বাড়ছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দর, যা মূল্যস্ফীতিকে নিয়ে গেছে দেড় বছরের শীর্ষে।
গত মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা এপ্রিলেও ছিল ৯ দশমিক ০৪। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কনজ্যুমারস প্রাইস ইনডেক্স প্রতিবেদনে মিলেছে এসব তথ্য।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩২। এরপর আর বাড়েনি, ধীরে ধীরে কয়েক মাস কমলেও সম্প্রতি আবার ঊর্ধ্বমুখী। গত মাসে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ মাসের সর্বোচ্চ। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৫৭। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে এমনটি হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা ভোক্তাদের।
সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুস্তাইন বিল্লাহ নামে বেসরকারি চাকরিজীবী বললেন, কয়েক মাসের মধ্যে বেড়ে গেছে গাড়িভাড়া। খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী। ধীরে ধীরে বাজারের ব্যাগে সদাইয়ের পরিমাণ কমছে, কিন্তু ক্রমেই বাড়ছে খরচ। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়তে থাকায় সামনে হয়তো আরও বেশি দামে কিনতে হবে একই পণ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০৫। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৩। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৮১।
শহরে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ০২। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৯, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৮১। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৪, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ১৫— উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। পরে গত ৩১ মে আবার এক দফা বাড়ে দর। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জীবনযাত্রার ওপর। পরিবহন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রই দাম বেড়ে গেছে। সেই প্রভাবে মে মাসে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।
এদিকে মজুরি হার বেড়েছে খুব সামান্যই। মে মাসে সাধারণ মজুরি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ১৬। এ ছাড়া কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৯, শিল্প খাতে মজুরি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ০৯। আর সেবা খাতে মজুরি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৬, যা এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ৩১।
‘আমরা কোনো তথ্য লুকোচুরি করছি না। আগের সরকারের মতো কার্পেটের নিচে লুকানো হচ্ছে না পরিসংখ্যান। এখন যা তথ্য পাচ্ছে তাই প্রকাশ করছে বিবিএস’— প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।




