ডিজিটাল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ে জোর, এনসিসি ব্যাংকের এজিএম অনুষ্ঠিত

সংগৃহীত ছবি
ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক পিএলসি’র ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৫ সালের জন্য ২১ শতাংশ লভ্যাংশ (১৭ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক) অনুমোদন করা হয়েছে।
বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ।
সভায় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী, পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খায়রুল আলম চাকলাদার, পরিচালক মো. মঈনুদ্দিন, পরিচালক মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, পরিচালক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানজিনা আলী, পরিচালক সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দীন, শামিমা নেওয়াজ, মোরশেদুল আলম চাকলাদার ও নাহিদ বানু, স্বতন্ত্র পরিচালক মীর সাজেদ উল বাসার এফসিএ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম এফসিএ, এফসিএস অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। শেয়ারহোল্ডাররাও সভায় অংশ নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. হাবিবুর রহমান এবং কোম্পানি সচিব (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী এফসিএস সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বহিঃনিরীক্ষকের প্রতিবেদন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়।
চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এনসিসি ব্যাংক ২০২৫ সালে স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। বিভিন্ন আর্থিক সূচক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকটি দেশের শীর্ষ ১০ টেকসই ব্যাংকের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা এর শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ও মোট সম্পদের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সম্পদের গুণগত মান রক্ষা, কম খরচের তহবিল বৃদ্ধি, দক্ষ তহবিল ব্যবস্থাপনা, ফি ও কমিশনভিত্তিক আয় সম্প্রসারণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উন্নত গ্রাহকসেবার মাধ্যমে ব্যাংকটি এগিয়ে যাচ্ছে।
সভায় অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, ৩৩ বছরের পথচলায় এনসিসি ব্যাংক দেশের অন্যতম আস্থাভাজন ও শক্তিশালী ব্যাংকে পরিণত হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘ইনোভেইট টু ইভলভ, ট্রান্সফর্ম টু লিড’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যাংকটি ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ, টেকসই অর্থায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি এসএমই ও রিটেইল ব্যবসা সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, ফি ও কমিশনভিত্তিক আয় বাড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যাংকিং, ক্যাশলেস লেনদেন এবং সবুজ অর্থায়নের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এনসিসি অলওয়েজ’ ও ‘এনসিসি আইকন’ অ্যাপ, ই-চালান, ডি-টোল, কিউআরভিত্তিক লেনদেন এবং মেট্রোরেল রিচার্জ সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী সেবা চালুর মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংক আধুনিক ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনে অবদান রাখছে।
স্ট্র্যাটেজি, উদ্ভাবন এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এনসিসি ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




