টেক্সটাইল খাতের জন্য ইতিবাচক: বিটিএমএ

সংগৃহীত ছবি
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি সক্ষমতা ও ব্যবসা সহজীকরণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বিশেষ করে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুল্ক-কাঠামো পুনর্বিন্যাস, সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারে সহায়ক উপকরণে নীতিগত সুবিধা ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের পদক্ষেপকে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করছে সংগঠনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থাপন করা বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানিয়েছে বিটিএমএ। রাতে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে বিটিএমএর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রপ্তানির নগদ সহায়তার ওপর এআইটি ১০ থেকে ৫ শতাংশ করা, রিসাইকেল্ড পণ্য ও কাঁচামালে করহার ৩ থেকে ১ শতাংশ হ্রাস, উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা, অতিরিক্ত উৎসে কর ফেরতের ব্যবস্থা, তুলা সরবরাহে উৎসে কর ১ থেকে শূন্য দশমিক শূন্য ৫০ শতাংশ করা, সৌরবিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে শুল্ককর শূন্য শতাংশ করা, ফেব্রিকের মিনিমাম ভ্যালু নির্ধারণ, সোলারের ওপর করাদি প্রত্যাহার এবং ইটিপি পরিচালনার রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বহাল রাখা।’ এ ছাড়া মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনে কাস্টমস আইনে বিধান সংযোজন এবং বন্ধ মিল চালুর উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়েছে সেখানে।
স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, শুল্ক-কাঠামো পুনর্বিন্যাস, সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারে সহায়ক উপকরণে নীতিগত সুবিধা ও ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের পদক্ষেপ উৎসাহব্যঞ্জক
তবে বিটিএমএ মনে করে, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার দেশীয় শিল্পের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর অপব্যবহারের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্য সংযোজনের হার বহাল রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি টেক্সটাইল খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় করপোরেট ট্যাক্সের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা জরুরি।সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতটি উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা, উৎসে কর ও চলতি মূলধনের অভাব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই জরুরি আয়কর ও উৎসে করের স্থিতিশীলতা, কাঁচামাল ও মেশিনারি আমদানিতে নীতিগত সহায়তা, বিনিয়োগ সুবিধা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি করনীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
বিটিএমএ বিশ্বাস করে, সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়ন হলে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আমদানি বিকল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি আয়ে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। একটি প্রতিযোগিতামূলক, জ্বালানি-দক্ষ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে বিটিএমএ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।




