মনির উদ্দিন এখনো ঢাকা ব্যাংক বোর্ডে

খন্দকার মনির উদ্দিন। ঢাকা ব্যাংক পিএলসির উদ্যোক্তা পরিচালক তিনি। এই পদে থাকার পাশাপাশি ২০২৩ সালের নভেম্বরে আত্মপ্রকাশ করা শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এই দ্বৈত দায়িত্ব পালন অবৈধ। তাই এই পরিচালককে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক দফা নির্দেশনার পরও খন্দকার মনির উদ্দিনকে সরানো হয়নি। সবশেষ গতকাল রবিবারও ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে বোর্ড অব ডিরেক্টরদের তালিকায় তার নাম দেখা গেছে।
গত সেপ্টেম্বরেই প্রতারণার মাধ্যমে তথ্য গোপনের দায়ে খন্দকার মনির উদ্দিনকে ঢাকা ব্যাংক পিএলসির বোর্ড থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগেও কয়েকবার একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
একই সঙ্গে অপরাধের প্রমাণ মেলায় এই পরিচালককে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পরিচালক মনিরের বিষয়ে কৌশলে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় ঢাকা ব্যাংককে করা হয় ৪ লাখ টাকা জরিমানা।
পরে ব্যাংকটির বর্তমান ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন এবং ঢাকা ব্যাংক শাস্তি ও জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন করে। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
ঢাকা ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো তথ্য বলছে, খন্দকার মনির উদ্দিন একই সঙ্গে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক এবং শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একই সঙ্গে কোনো ব্যাংক এবং ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক থাকা যায় না। এটি সরাসরি নিয়মের লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মেলার পর খন্দকার মনির উদ্দিন শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু এর আগেই তাকে ও ব্যাংককে জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে খন্দকার মনিরকে পরিচালনা পরিষদ থেকে সরাতেও নির্দেশনা জারি করে।
এই শাস্তির বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হলেও ঢাকা ব্যাংক সেটি আমলে নেয়নি। উল্টো কালক্ষেপণের মাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত খন্দকার মনির উদ্দিনকে অপসারণ করেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে বিকম (সম্মান) এবং এমকম ডিগ্রি নেওয়া খন্দকার মনির উদ্দিন ১৯৮৫ সালে ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেন। রিয়েল এস্টেট ও হোল্ডিং প্রতিষ্ঠান শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড এবং শান্তা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। এ ছাড়া এসটিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি, যার অধীনে ঢাকার এভারকেয়ার হসপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) পরিচালিত হয়।
তার এ শাস্তির বিষয়ে কথা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, ‘কোনো ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার শর্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনে বিস্তারিত রয়েছে। তা লঙ্ঘন করলে কী শাস্তি, সেটিও নির্দিষ্ট ধারায় উল্লেখ রয়েছে। এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদে শাস্তির বিরুদ্ধে করা আপিল বাতিল হলে শাস্তি কার্যকর করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে জানিয়ে তিনি বললেন, ‘তা সে যত প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, শাস্তি পেতেই হবে।’



