ব্র্যাক ব্যাংকের চমক, সংকটে ইসলামী ও ঢাকা ব্যাংক

প্রতীকী ছবি
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশকিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উচ্চ সুদের হারের এই সময়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কৌশলে ব্র্যাক ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংক মুনাফার ধারায় ফিরলেও, খেলাপি ঋণ ও সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের চাপে মুনাফা হারিয়েছে ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯০ টাকায়। ট্রেজারি বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজে স্মার্ট বিনিয়োগ এবং সুদ থেকে আয় বৃদ্ধিই ব্যাংকটিকে নিয়ে গেছে এই শক্ত অবস্থানে। তবে গ্রাহকদের আমানত উত্তোলন ও ঋণের দায় পরিশোধের চাপে শেয়ার প্রতি কিছুটা কমেছে নগদ প্রবাহ।
অন্যদিকে, নেতিবাচক ক্যাশ ফ্লো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। গত বছর যেখানে তাদের ক্যাশ ফ্লো ছিল ঋণাত্মক ৫.৬৩ টাকা, এবার তা ফিরেছে ০.৬২ টাকায়। বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি এবং সঞ্চিতি সংরক্ষণের চাপ কমায় ব্যাংকটির ইপিএসেও দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি।
আমানত সংকট এবং ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে ঢাকা ব্যাংক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিবেদনে। ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস ০.৮০ টাকা থেকে কমে নেমেছে ০.৫৬ টাকায়। মূলত ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে সঞ্চিতি রাখা এবং অপারেটিং আয় কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। একইভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.২৯ টাকায়। উভয় ব্যাংকেরই অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বা নগদ প্রবাহ মারাত্মকভাবে নেতিবাচক হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে তারল্য সংকটের।
প্রতিবেদনের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র দেখা গেছে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে। গত বছর এই সময়ে মুনাফায় থাকলেও এবার ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি লোকসান গুনেছে ১.৭৯ টাকা। খেলাপি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আমানতের বিপরীতে উচ্চ মুনাফা বা সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ব্যাংকটি। তবে ব্যাংকটি বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণ কমিয়ে দেওয়ায় তাদের নগদ প্রবাহে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।
ব্যাংক এশিয়া তাদের মুনাফায় কিছুটা অবনমন দেখলেও (ইপিএস ০.৯৮ টাকা) নগদ অর্থ প্রবাহে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ব্যাংকটির এনওসিএফপিএস ৩০.৭২ টাকায় উন্নীত হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যাংকটি বর্তমানে রক্ষণশীল ও নিরাপদ ব্যাংকিং নীতি অনুসরণ করছে।




