এডিআর নীতিমালা
বিকল্প মধ্যস্থতাকারী হতে পারবেন না প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার এবং আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এডিয়ারের আওতায় তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আর্থিক সক্ষমতা, মানবসম্পদ ও পেশাগত দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও টিন থাকতে হবে। তবে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি, প্রতারণা, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ বা মানি লন্ডারিংসহ গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য থাকলে বাতিল হবে আবেদন।
আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রন্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা সমমানের প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্যকে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট থাকতে হবে। প্রতিটি মধ্যস্থতাকারী প্যানেলে কমপক্ষে পাঁচজন সদস্য থাকবেন, যার মধ্যে অন্তত একজন হিসাববিদ ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ থাকতে হবে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যস্থতাকারী প্যানেলে রাখা যাবে না।
এতে উল্লেখ রয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইন, হিসাব, নিরীক্ষা বা বিচারসংক্রান্ত কাজে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি, আদালত কর্তৃক দেওলিয়া ঘোষণা, গুরুতর অসদাচরণ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের শাস্তির তথ্য থাকা যাবে না। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরে অন্তত দুটি এডিআর প্রশিক্ষণ এবং একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজন করতে হবে।
এদিকে নীতিমালায় অনলাইন বা ভার্চুয়াল মধ্যস্থতার সুবিধা, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ৭০ নম্বর পেতে হবে। তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
প্রয়োজন হলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং অনিয়ম, অসদাচরণ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা নীতিমালা ভঙ্গের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিবছর তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বিরোধ নিষ্পত্তির সংখ্যা, নিষ্পত্তির হার, গড় সময়, প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদসংক্রান্ত তথ্যসহ বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।







