আগামীর সময়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নেই: বাণিজ্য মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নেই: বাণিজ্য মন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। সরকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি সই হয়েছে, সেখানে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ আছে। এতে এমন উপাদানও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে’, বলছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


তিনি মনে করেন, এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যদিও অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময় তড়িগড়ি করে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং এর নানা শর্ত নিয়েও শঙ্কা করেন অনেকে।


চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিনা এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।


‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়’, জবাবে বলছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


এই চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত কি জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলছিলেন, ‘এটা রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সিদ্ধান্তের কিছু নেই। যদি আপনারা কোনো কিছু খারাপ দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন।’


অপর এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয় সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।


ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলছিলেন, ‘বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।’


এদিন বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার এবং নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো আবদুর রহিম খান এবং অতিরিক্ত সচিব ডাব্লিউটিও খাদিজা নাজনীন উপস্থিত ছিলেন।

    শেয়ার করুন: