আগামীর সময়

বন্দর সচলে বাধা দিলেই ব্যবস্থা: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

বন্দর সচলে বাধা দিলেই ব্যবস্থা: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। রমজানের আগে ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে বন্দরে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


অন্যদিকে বন্দর সচল আছে বলে জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান। আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেও জানান তিনি।


সচিবালয়ে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মি রাখার চেষ্টা করছে কিছু লোক। কিন্তু বন্দর সচল রাখতে হার্ডলাইনে আছে সরকার। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারাই বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'


আন্দোলনকারীদের দাবি মানার মতো না জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত বলেন, 'রমজানকে সামনে রেখে যে কোনো মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা হবে।'


নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপিওয়ার্ল্ডকে দেয়ার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে বন্দরে চলছে লাগাতার ধর্মঘট। এই চুক্তির বিষয়ে আরও সময় চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে ডিপিওয়ার্ল্ড চিঠি দিয়েছে বলে জানান নৌপরিবহন উপদেষ্টা। এ বিষয়ে আলোচনা নির্বাচনের পরেও চলবে বলে জানান তিনি।


চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা লাগাতার ধর্মঘটে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। কাজ বন্ধ আছে বহির্নোঙরেও। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, বন্দরের অবস্থা স্বাভাবিক।


দুপুরে বন্দর ভবনে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বন্দর চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, 'বন্দর হাইজ্যাক করে জনগণকে জিম্মি করার জন্য কিছু বিপথগামী কর্মচারী এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী। আমাদের আনুগত্য রাষ্ট্রের প্রতি থাকতে হবে। বন্দর যে আইনে পরিচালিত হয়, সেই আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারও আনুগত্য বেছে নেয়, তা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।'


আন্দোলনকারীরা রমজানের আগে এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করেন মনিরুজ্জামান।


তিনি বলেন, 'একটি পক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন বিঘ্নিত হতে দেয়া যাবে না। আমি দুই ঘণ্টা ধরে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবেন। কেউ বাধা দিলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

    শেয়ার করুন: