প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামি

মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি মো. রফিকুল ইসলাম শাকিল। ছবি: সংগৃহীত
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি মো. রফিকুল ইসলাম শাকিল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আসর নামাজের পর পটুয়াখালী শহরের করভবনের পাশে বাইতুল মামুর জামে মসজিদের সামনে তার মা সাহিদা বেগমের জানাজা হয়।
জানাজা শেষে শাকিলকে আবার যশোর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মাগরিবের সময় সাহিদা বেগম মারা যান। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য শাকিলের পরিবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করে। পরে যশোর জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক নেতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাকিলকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার জানাজার সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ছিলেন শাকিল। মায়ের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে তাকে কাছে পেয়ে স্বজনদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিস্থিতির।
দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন সাহিদা বেগম। শাকিল তাদের মধ্যে ছোট ছেলে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শাকিলের বড় ভাই মো. শাহিন পটুয়াখালী পৌর বিএনপির নেতা। জানাজার আগে তিনি দাবি করেন, ‘আমার ভাই ষড়যন্ত্রের শিকার। আমরা বিএনপি পরিবার দেখে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামি করা হয় আমার ভাই শাকিলকে এবং দীর্ঘ ১৫ বছর জেল হাজতে থাকতে হয়েছে। আর সব আসামি মুক্ত হয়ে দেশ-বিদেশে আছেন।’
জানাজায় অংশ নেন জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে পুরান ঢাকায় দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২০১৩ সালে ঢাকার নিম্ন আদালতের রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়ে শাকিলসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয় এবং বাকি চারজন খালাস পান।







