বগুড়া শহরের উপর দিয়ে চলবে ট্রেন : মীর শাহে আলম

বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: আগামীর সময়
শহরের মাঝ দিয়ে যাওয়া রেলপথ আর থাকবে না বগুড়ায়। যানজট কমাতে ঢাকার মেট্রোরেলের আদলে সেখানে উপর দিয়ে চলবে ট্রেন। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এসব জানালেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বগুড়ায় নেওয়া বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বিষয়ে করেন আলোচনা।
তিনি জানালেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এটি। এর ভূমি অধিগ্রহণে এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ২২০০ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এই রেলপথের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘শহরের যানজট ও ভোগান্তি দূর করতে আমরা নতুন একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করছি। পরিকল্পনা আছে, রানীরহাট থেকে বগুড়া শহরে যে রেল সংযোগ আসবে, সেখান থেকে ঢাকা মেট্রোরেলের আদলে উড়াল রেললাইন বা পিলার তৈরি করে শহরের উপর দিয়ে ট্রেনটিকে নিয়ে গিয়ে গাবতলীতে নামানো হবে। রেলস্টেশনটি মেট্রোরেলের মতো দোতলায় হবে। শহরে কোনো রেলগেট থাকবে না এবং নিচের অংশটি রাস্তা হিসেবে সিটি করপোরেশন ব্যবহার করতে পারবে।’
আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানালেন তিনি।
মতবিনিময়ে বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রসঙ্গ টানেন প্রতিমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়টি শহরের আশপাশে কোলাহলমুক্ত কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপন করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে বগুড়ায় আলাদা কৃষি, প্রকৌশল বা চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় যেন না লাগে, সেজন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই জেনারেল অনুষদের পাশাপাশি প্রকৌশল, কৃষি ও চিকিৎসা অনুষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে এটি মন্ত্রিপরিষদে উঠবে।’
নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের কার্যপরিধি প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘বগুড়া নগরীর জন্য প্রথমত ড্রেনেজব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া রাজধানী বা রাজশাহীর আদলে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হচ্ছে, যার খসড়া আইনের কাজ চলছে। এটি নতুন আবাসিক এলাকা নির্মাণ ও ভবনের নকশা অনুমোদনে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শহরের সুপেয় পানি ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন বগুড়া ওয়াসা স্থাপন করা হচ্ছে।’
বগুড়ার প্রেস ক্লাব উন্নয়নের কথাও বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। জানিয়েছেন, প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, রাস্তা ও এসিসহ সার্বিক সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে সভার সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।




