ঈদের ছুটির শেষ দিনে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর শ্রীমঙ্গল

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির শেষ দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দেশের চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গল। আজ রবিবার ঈদের চতুর্থ দিনে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, চা-বাগান ও দর্শনীয় স্থানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়।
সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়-টিলা ও চা-বাগানের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে শ্রীমঙ্গলে ছুটে আসেন পর্যটকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বধ্যভূমি-৭১, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হরিণছড়া গলফ মাঠ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), রাবার বাগান, বাইক্কা বিল, সাত রঙের চা, লাল পাহাড়, মণিপুরী পাড়া এবং ভানুগাছ সড়কে ছিল পর্যটকদের ভিড়। অনেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতেও ব্যস্ত ছিলেন।
ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য ছিল শ্রীমঙ্গল। তবে ছুটির শুরুতে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব, যাতায়াতের ভোগান্তি, ট্রেনের টিকিটসংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। ছুটির শেষ দিকে এসে সেই চিত্র বদলে যায়। বিশেষ করে শেষ দিনে অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
লালমনিরহাট থেকে আসা পর্যটক আব্দুল আল হাসান জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গল ঘুরতে এসেছেন। চাঁদের গাড়িতে করে চা-বাগান, লাল পাহাড়সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দিনটি উপভোগ করেছেন।
নোয়াখালী থেকে আসা পর্যটক ইশরাত জাহান উল্লেখ করেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গলে এসেছেন। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে।
বগুড়া থেকে আসা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোভা রহমান জানায়, শ্রীমঙ্গলের নাম অনেক শুনেছিল। প্রথমবার এসে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ দেখে তার খুব ভালো লেগেছে এবং ভবিষ্যতে আবারও এখানে আসতে চায়।
পর্যটক নিশা দাশ বলেন, বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড় থাকলেও পরিবেশ ছিল উপভোগ্য। চা-বাগানের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার অনুভূতি অসাধারণ। একই সঙ্গে এসব স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাশ জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্রে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন জানান, এবার আগাম বুকিং তুলনামূলক কম ছিল। তবে ঈদের তৃতীয় দিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে হোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। ছুটির শেষ দিকে পর্যটকদের এই আগমন পর্যটন ব্যবসার জন্য স্বস্তির খবর।






