হাঁড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
জাল সনদে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি!

কোলাজ : আগামীর সময়
বরগুনার পাথরঘাটার হাঁড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (এডহক) ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ছগির আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া তার ডিগ্রি সনদ যাচাই করে অন্য একজনের শিক্ষাগত তথ্য পাওয়া গেছে। কমিটি অনুমোদনের আগে সনদটি যাচাই-বাছাই হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আগামীর সময়'র অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছগির আলমের নামে শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া সনদে ২০১৫ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাস এবং জিপিএ ২.৯৪ উল্লেখ রয়েছে। সনদটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করলে ছগির আলমের পরিবর্তে মো. আবুল কালাম আজাদ নামে একজনের শিক্ষাগত তথ্য পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদ পাথরঘাটার সরকারি হাজী জালাল উদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের— (তৎকালীন হাজী জালাল উদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ) শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০১৫ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ/বিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, ছগির আলম বর্তমানে পাথরঘাটা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য বাতায়নে ছগির আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য বোর্ডে জমা দেওয়া সনদে তাকে স্নাতক পাস দেখানো হয়েছে। দুটি সরকারি তথ্যের এই পার্থক্যও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত ৩০ জুলাই বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিদ্যালয়টির চার সদস্যের এডহক কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে বোর্ডের মনোনয়নে ছগির আলমকে সভাপতি করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, এডহক কমিটির সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান। সভাপতি মনোনয়নের জন্য ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বোর্ডে পাঠানোর কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—বোর্ডে পাঠানোর আগে ছগির আলমের সনদ যাচাই করা হয়েছিল কি না, আর যাচাই হয়ে থাকলে একই সনদে অন্য ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেল কীভাবে?
হাড়িটানা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কুমার মিত্রের ভাষ্য, সভাপতির জন্য তিনজনের নাম ইউএনও কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা তার দায়িত্বের মধ্যে ছিল না বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ছগির আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্ধ্যার পর কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠালে পরের দিন বার্তা পাঠিয়ে জানান, বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান হাওলাদার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত সনদ সরাসরি যাচাই করার সুযোগ বোর্ডের নেই। ইউএনও ও ডিসি সনদ যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রস্তাব পাঠানোর পর বোর্ড অনুমোদন দেয়। তবে কোনো সনদ নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






