মির্জা ফখরুল
জনগণের আস্থা হারালে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়

জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। ধমক, নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। যদি তা সম্ভব হতো, তাহলে শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় টিকে থাকতেন। কিন্তু জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে না।
আজ বুধবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লীতে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেছেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূল্লী উপজেলা করার স্বীকৃতিস্বরূপ ভূল্লীবাসীর উদ্যোগে কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনে এক সময় আমাদের নেতাকর্মীরা ঘুমাতে পারতেন না। অনেককে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে, ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। সেই দুঃসময়ের অবসান হয়েছে। আজ আমরা মুক্তির নিশ্বাস নিতে পারছি। তবে সেই দিনগুলোর কথা আমরা ভুলিনি, ভুলতেও পারি না।’
‘দেশের ব্যাংকগুলো লুটপাট করা হয়েছে, লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়েছে। কোনো কারচুপি হয়নি। জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে এবং সেই আস্থার প্রতিদান আমাদের দিতে হবে’— যোগ করেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘আপনাদের দায়িত্ব এখন অনেক বেড়ে গেছে। জনগণ আপনাদের ওপর যে বিশ্বাস রেখেছে, আপনাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।’
‘আমরা বাংলাদেশে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা এমন একটি গণতন্ত্র চাই, যেখানে সব রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে, মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং জনগণের কাছে যেতে পারবে। আমরা একটি কার্যকর সংসদ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকবে। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভূল্লীকে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এ অর্জনকে স্থানীয়রা একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। এ উপলক্ষে ভূল্লীবাসীর পক্ষ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা স্মারক প্রদান করা হয়।




