চালুর দুই দিনের মাথায় আবারও উৎপাদন বন্ধ যমুনা সার কারখানায়

ফাইল ছবি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানায় বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন শুরুর দুদিনের মাথায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গত সোমবার রাতে কারখানাটিতে সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন কারখানাটির উৎপাদন প্রধান ফজলুল হক।
তিনি বললেন, ‘সার কারখানার সবকিছু সচল রয়েছে। অ্যামোনিয়া উৎপাদন চলছে। তবে বয়লারে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। আশা করছি, দু-এক দিনের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান হয়ে যাবে।’
গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আট মাস পর গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।
দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যমুনা সার কারখানার যাত্রা শুরু হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে গ্যাসের স্বল্প চাপ ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন হচ্ছিল।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে যমুনা সার কারখানা। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ থাকলে প্রতি মাসে কারখানাটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা থাকে।
অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




