মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া

পাবনার ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি। ছবি: আগামীর সময়
মাথায় কাফনের কাপড়, হাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র। পাবনার ঈশ্বরদী শহরে এভাবেই প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি। এরপর তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির একাংশ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
গতকাল সোমবার বিকালে ঈশ্বরদী পৌর শহরের বকুলের মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় হয়ে রেলগেট পর্যন্ত এই মহড়া দেন বাপ্পি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলভ মালিথা। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এরপর বাপ্পিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির একাংশ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী থানার সামনে জড়ো হয়ে ডিএসবির এক কর্মকর্তাকে মারধরও করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদের নেতৃত্বে পুলিশ থানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও পাবনা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বাপ্পি জানালেন, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইয়েরা এক পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ কারণে হুমকিদাতা এবং মাদক ও সুদের কারবারিদের ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ দিতে তিনি কলেজ রোডের বাড়ি থেকে লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে ও মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে জিরো পয়েন্ট রেলগেটে যান।
সেখান থেকে থানায় গিয়ে ওসিকে তিনি জানিয়েছেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ দিয়েছেন। তবে তাকে সতর্ককারী ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেননি বাপ্পি।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান জানালেন, জুবায়ের বাপ্পি প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে গালাগাল ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বাপ্পিকে গ্রেপ্তার এবং তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, অস্ত্র প্রদর্শন করে কাউকে হুমকি দেওয়া বা অস্ত্রের অপব্যবহার করা হলে ওই অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া বাপ্পির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।







