সব পথ শেষে পড়ে আছে শিশুটির জুতা

ছবিঃ আগামীর সময়
ঈদ শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফিরছিল তারা। কিন্তু কে জানত— এই ফেরাই হবে চিরযাত্রা। দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহত ছোট্ট শিশু ইসরাফিল (৩) ও সাত মাস বয়সী আরমানের ঘটনাটি এমনই। নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে, হয়তো চিরনিদ্রায় শায়িতও হয়েছে। কিন্তু এখনো উদ্ধার হওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের সেই বাসের মেঝেতে পড়ে আছে ছোট্ট শিশুদের দুটি জুতা। স্মৃতি পড়ে থাকলেও নেই সেই শিশুরা।
বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে রাজবাড়ির দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে রাখা বাসটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায় এমনই করুণ দৃশ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাসটি চূর্ণ-বিচুর্ণ। গাড়ির সামনের গ্লাস ভাঙা, যাত্রীদের বসার সিটগুলোও ভাঙা। দুই পাশের জানালার গ্লাস ভাঙা। তবে বাসের গেট থেকে পেছন পর্যন্ত মেঝেতে পড়ে আছে খয়েরি রঙের একটি জুতা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে হয়তো ৬ থেকে ৭ মাস বয়সী শিশুর জুতা। হয়তো এই জুতা পড়েছিল সাত মাস বয়সী আরমান। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের নুরুজ্জামানের ছেলে সে।
অন্যদিকে বাসের সিটের নিচে ছিল আরেকটি শিশুর বেল্ট জুতা। এই জুতার বেল্টের লং লাল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুর হবে। হয়তো শিশু ইসরাফিলই পড়েছিল। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমাজপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিল।
এদিন উদ্ধার হওয়া বাসটি দেখতে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে ভিড় করছিল উৎসুক জনতা। বাসটি দেখতে আসা রাজ্জাক মিয়া বলছিলেন, ‘কী নির্মম ঘটনা— বাসের ভেতরে শিশুর পায়ের জুতা পড়ে আছে, কিন্তু শিশুটি জীবিত নেই। তাদের স্মৃতিটুকু পড়ে আছে এখানে।’
আজ বিকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রাজবাড়ি-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। ‘এটি খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এখন পর্যন্ত নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জন নিহতের মরদেহ তাদের পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। একজন বাকি আছে। তার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে’, গণমাধ্যমকর্মীদের জানাচ্ছিলেন তিনি।
বাসডুবির ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার ও আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ঘাট ব্যবস্থাপনায় কি কোনো পরিবর্তন আসবে?
‘আপনারা সকলেই দেখেছেন দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে। এরপরও সামগ্রিক ঘাট ব্যবস্থাপনায় কোনো ক্রুটি-বিচ্যুতি ছিল কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পেলে এই দুর্ঘটনার নিখুঁত কারণ জানা যাবে’, ব্যাখ্যা করছিলেন মন্ত্রী।

