আগামীর সময়

বোতলের ক্যাপ ছুঁড়ে মারা নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭

বোতলের ক্যাপ ছুঁড়ে মারা নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭

ছবিঃ আগামীর সময়

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয় বোতলের ক্যাপ ছুঁড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়ার জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, রবিবার সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে রতন শেখ নামের এক ব্যক্তি কোমল পানি পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুঁড়ে মারেন। এ সময় ক্যাপটি গিয়ে কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। তখন ক্যাসেট বকাবকি করলে রতন শেখ তাকে মারধর করেন। বিষয়টি ক্যাসেট বাড়ি গিয়ে তার ছেলে মামুনকে জানান। তখন মামুন এসে তার বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে রতন তাকেও মারধর করেন। সেসময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের ছেলে আলম শেখ রতনকে একটা চর মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়রা বিষয়টি মিমাংসা করে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এর জের ধরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রতন জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন ও তাদের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখের অন্তত ৭জন লোক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন, কয়া ইউনিয়নের রাধাগ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। তাদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চিকিৎসকরা তাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কৃষিজমিতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করছেন। তাদের অনেকের মাথায় হেলমেট পড়া। অনেকের হাতে ঢাল, সরকি লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের হাতে, বুকে, পায়ে ছড়রা গুলির চিহ্ন ও শরীরে রক্তাক্ত ক্ষত।

এ সময় আহত জনি শেখ জানান, ‘বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা ১০ থেকে ১২ জন আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখন জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমরা অন্তত ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

আহত মো. রাব্বি বলেছেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় ইয়ারুল তার বাহিনী দিয়ে গুলি করেছে। আমার শরীরে অন্তত ২২ টি ছড়রা গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলম শেখ বলেছেন, ‘সকালে রতন একজনের মাথায় আরসির ( কোমল পানীয়) বোতলের ক্যাপ ছুঁড়ে মারলে হালকা মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকালে ইয়ারুল, রতন, নাসির, সোহেলসহ তাদের লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। এতে আমার সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।’

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেছেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমমিকভাবে জানতে পেরেছি। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

    শেয়ার করুন: