আখাউড়ায় আলোচিত সেই গাছ কেটে ফেলল প্রশাসন

আখাউড়ায় কাটা হচ্ছে আলোচিত সেই গাছ— আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া আলোচিত গাছটি কেটে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন। গাছটিকে ঘিরে কুসংস্কার, অলৌকিকতার দাবি এবং মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি অপসারণ করা হয়।
গাছটি আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে। এটির মালিক প্রবাসী মো. রুহুল আমিন মুন্সি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মালিকের অনুমতি নিয়েই গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে রুহুল আমিনের গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে। পরে এর ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। প্রায় ১০ দিন আগে আরেকটি ঝড়ের পর ডালপালাবিহীন গাছের অবশিষ্ট কাণ্ডটি আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এরপর গাছটিকে ঘিরে নানা ধরনের অলৌকিক প্রচার শুরু হয়। কেউ এটিকে ‘জ্বিনের কাজ’ বলে দাবি করেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করতে থাকেন। কেউ মানত করেন, কেউ আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালান। অনেকে গাছের শিকড় ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। একপর্যায়ে গাছের নিচে লাল কাপড় বাঁধা হয় এবং স্থানটিকে মাজারসদৃশ রূপ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেছেন, গাছটি ঝড়ে শিকড়সহ উপড়ে পড়েছিল। পরে ডালপালা কেটে দেওয়ার কারণে ভারসাম্য পরিবর্তন হয়ে আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটা অলৌকিক কোনো বিষয় নেই।'
আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. নান্নু মিয়া জানান, গাছটি প্রায় ৮০ শতাংশ কাটা ছিল। মাথার অংশ কেটে ফেলায় উপরের অংশ হালকা হয়ে যায়, আর গোড়ার অংশ ভারী থাকায় এটি আবার দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বললেন, ‘গাছটিকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম হচ্ছিল এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। গাছের মালিকের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গাছের মালিক জানিয়েছেন, গাছ বিক্রির অর্থ কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।





