দিনাজপুরে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব, ক্ষতির মুখে কৃষক
- আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখতে হবে
- গরু আক্রান্ত হলে নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে

সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় দেখা দিয়েছে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব।
এই ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে উপজেলার লাউগাড়ী, দাউদপুর, হালুয়াঘাট, পাটনিপাড়া ও ডিঘিপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, গরুর শরীরে গুটি ওঠা, জ্বর, খাওয়ায় অনীহা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত মারা যাচ্ছে আক্রান্ত গরু। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
লাউগাড়ি গ্রামের জামিরুল ইসলাম ও জবা বেগম, কুমারপাড়া গ্রামের দিপু কুমার, ডিঘিপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ ও লিটন মিয়ার একটি করে গরু ইতিমধ্যে মারা গেছে।
তারা জানান, হঠাৎ করেই গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা।
দাউদপুর কলেজপাড়া এলাকার কৃষক ফটিক মিয়া বললেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরুকে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখন অন্য গরুগুলো নিয়েও খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
হালুয়াঘাট গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমার গরুটার শরীরে হঠাৎ করে গুটি ওঠে, পরে জ্বর আসে। প্রাণী সম্পদ অফিসে গিয়ে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালাচ্ছি। এখন কিছুটা কমে যাচ্ছে। তারপরেও দুশ্চিন্তায় আছি।’
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.আসাদুজ্জামান পরামর্শ দিয়েছেন, লাম্পি স্কিন রোগ একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত গরুকে আলাদা রাখতে হবে এবং নিকটস্থ প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি খামারিদের খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশা-মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, রোগের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

