বাংলাদেশের রাজনীতিতে আ.লীগের ফেরার সুযোগ নেই: হাসনাত

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বললেন, যে দলের প্রধানরা লাখ লাখ নেতাকর্মী ফেলে পালিয়ে যায়, তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, তবে আ.লীগের ব্যাপারে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানালেন তিনি।
বেগমপাড়ায় আমাদের কোনো বাড়ি নেই। নেই কোনো গাড়ি। আমাদের মুরব্বিদের অনেকেরই বেগমপাড়ায় বাড়ি-গাড়ি আছে। তাদের সন্তানরা বিদেশে পড়ালেখা করে, চিকিৎসা নিতে বিদেশে যায়। এ দেশের সাধারণ মানুষ দেশে চিকিৎসা নিলেও কিছু অসাধারণ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়। এই ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে পাল্টাতে হবে, জানালেন হাসনাত।
তিনি উল্লেখ করেন, বেকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ দেশের যুব সমাজকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি প্রতিটি সেক্টরে মেধাবীদের স্থান দিতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এসএমই সেক্টরকে আরও গতিশীল করতে হবে। এজন্য আগামী বাজেটে দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে আমাদের সন্তানদের বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করতে না হয়।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতার ভাষ্য, আমরা এখন বিরোধী দলে। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ পদোন্নতি পাওয়ার আশায় আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করবে, হয়রানি করবে। এটা পুলিশের দোষ না। পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। আমাদের রাজনীতিকরা পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। যাতে তাদের কথা শুনে বিরোধী দলকে হয়রানি করা যায়। তার প্রমাণ হাসিনার আমলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার অপরাধে গ্রেপ্তার হতে হতো। বর্তমান সরকারের সময়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখলে গ্রেপ্তার হতে হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না। দেশটাকে পাল্টাতে হবে আমাদের।
চৌদ্দগ্রামকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, যারা মাদক কারবারি, তারা দেশ ও জাতীর শত্রু। তারা যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুলিশ আর মাদক কারবারি একসঙ্গে চলতে পারে না।
জাতীয় যুব শক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মজুমদারের পরিচালনায় পদযাত্রায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাভীদ নওরোজ শাহ, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ, এনসিপি নেতা মাসুমুল কাউছার, জাতীয় যুব শক্তির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়ক জাহিদুল তালুকদার, এনসিপি নেতা মো. হানিফ পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।




