ধুনট
শহরাবাড়ি ঘাটের ভাঙন থামছেই না

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার ধুনটের যমুনা নদী পাড়ের শহরাবাড়ি ঘাট এলাকায় ভাঙন থামছেই না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে গত তিন মাসে এই ঘাট এলাকার অন্তত ৬০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্রমাগত এই ভাঙনে বদলে যাচ্ছে নদীপাড়ের চিত্র।
গতকাল শনিবার থেকে ফের যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার শহড়াবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় এই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে ঠিকানা হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ঘাট সংলগ্ন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ জুলাই বাঁধটির সামনের অংশে প্রায় ৫০ মিটার ভেঙে যায়। এরপর ২৮ জুলাই আরও প্রায় ৭০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। পরবর্তীতে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আবার এক রাতেই স্পারের সামনের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত শহরাবাড়ি ঘাটের বিভিন্ন স্থান ভাঙনের শিকার হয়েছে। গতকাল শনিবার ভাঙনে শহরাবাড়ি স্পার বাঁধের পূর্বদিকের অংশ ভাঙনের মুখে পড়ে। ভাঙনে বাঁধের অধিকাংশ স্থান বিলীন হয়ে গেছে।
নৌঘাটের বিশ্রাম ও শৌচাগারের স্থান হেলে পড়েছে। যেকোনো মুহুর্তে এই স্থাপনাও বিলীন হবে নদীগর্ভে। একইভাবে গত বছরেও এই বাঁধের প্রায় ৯ টি দোকান ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন থামছে না। বরং বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাড়ের নতুন নতুন অংশ। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ভাঙন ঠেকাতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ জন্য দীর্ঘস্থায়ী তীর রক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শহরাবাড়ি ঘাটের পাশের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম জানালেন, প্রতিবছর জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে যমুনার তীর রক্ষায় নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ব্যবস্থা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে শহড়াবাড়ি ঘাটসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে বলছে, উজানে যমুনা নদীর প্রশস্ততা প্রায় ৪ কিলোমিটার। কিন্তু শহরাবাড়ি এলাকায় এই প্রশস্ততার পরিমাণ মাত্র ৮০০ মিটার। ফলে এখানে পানির চাপ বেশি। যেই পানির স্রোত ঘুর্ণায়মানভাবে এসে আঘাত হানছে শহরাবাড়ি স্পার বাঁধের উত্তর পশ্চিম অংশে। এতে ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, নদীর ভাঙন স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখানে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজেন। ইতিমধ্যে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পনিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলেই প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়ে যাবে।




